The Hidden Words

Arabic

1. হে পরমাত্মার সন্তান !
 আমার প্রথম উপদেশ এই,এক পবিত্র, করুণাঘন এবং উজ্জ্বল অন্তঃকরণের অধিকারী হও, যেন তুমি একটি প্রাচীন, অবিনশ্বর এবং চিরস্থায়ী সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হইতে পার।	-১

2. হে পরমাত্মার সন্তান!
 ন্যায়পরায়ণতা আমার নিকট সর্বাপেক্ষা প্রিয়তম! যদি আমাকে আকাংখা কর, তবে ইহা হইতে বিমুখ হইওনা, এবং ইহাকে অবহেলা করিও না, যেন আমি তোমার উপর আমার বিশ্বাস ন্যস্ত করিতে পারি। ইহার সাহায্য তুমি স্বচক্ষে এবং অপরের চক্ষু ব্যতিরেকে দর্শন করিবে, এবং  নিজ অপরের চক্ষু ব্যতিরেকে দর্শন করিবে, এবং নিজবোধ-শক্তি বলে  এবংপৃথিবীস্থ অন্য কাহারও বোধ-শক্তির সহায় ব্যতীত জ্ঞানলাভ করিবে। এই বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তাকর, তোমার কিরূপ হওয়া উচিত। ন্যায়পরায়ণতা তোমার প্রতি আমার দান এবং তোমার প্রতি দয়ার নিদর্শন। সুতরাং ইহা সর্বদা তোমার চক্ষুদ্বয়ের সম্মুখে রাখ।-২

3. হে মানব সন্তান!
 আমি আমার প্রাচীন সত্তায় এবং আমার অনাদি অনন্ত অস্তিত্বে নিহিত ছিলাম। আমি তোমার জন্য আমার প্রেম অনুভব করিলাম, সুতরাং আমি তোমাকে সৃষ্টি করিলাম, এবং তোমাতে আমার সাদৃশ্যের প্রতিমূর্তি স্থাপন করিলাম, এবং তোমারই জন্য আমার সুষমা সৌন্দর্য প্রকাশ করিলাম।-৩

4. হে মানব সন্তান!
 তোমার সৃষ্টি আমার প্রিয় ছিল। সুতরাং আমি তোমাকে সৃষ্টি করিলাম। অতএব, তুমি আমাকে ভালবাস, যেন আমি তোমাকে স্মরণ করিতে, এবং তোমাকে আধ্যাত্মিক জীবনে সুনিশ্চিত করিতে পারি।-৪

5. হে সত্তার সন্তান!
 আমাকে ভালবাস, যেন আমি তোমাকে ভালবাসিতে পারি। যদি তুমি আমাকে প্রেম না কর, তবে আমার প্রেম তোমার কাছে কোন মতেই পৌঁছিবে না। হে ভৃত্য, ইহা জানিয়া রাখ।-৫

6. হে সত্তার সন্তান!
 আমার প্রেমই তোমার স্বর্গ এবং আমার সহিত পুনর্মিলনই তোমার স্বর্গীয় নিবাস। সুতরাং তুমি ইহাতে প্রবেশ কর এবং বিলম্ব করিও না। আমাদের অত্যুচ্চ রাজ্যে এবং আমাদের উন্নততম স্বর্গে তোমার জন্য ইহাই নির্ধারিত করা হইয়াছে।	-৬

7. হে মানব সন্তান!
 যদি তুমি আমাকে ভালবাস, তবে তুমি তোমার নিজের দিক হইতে মুখ ফিরাইয়া লও, এবং যদি তুমি আমার সন্তোষ বাঞ্ছা কর, তবে তোমার নিজের সন্তোষের প্রতি চক্ষু বন্ধ কর, যেন তুমি আমার মধ্যে একেবারে মরিয়া যাইতে পার এবং আমি তোমার মধ্যে চিরস্থায়ীরূপে জীবিত থাকিতে পারি।	-৭

8. হে পরমাত্মার সন্তান!
 যদি তুমি তোমার নিজের দিক হইতে মুখ ফিরাইয়া না লও এবং আমার দিকে না ফির, তবে তোমার জন্য কোন বিশ্রাম নাই, কারণ তোমার নামের মধ্যে গৌরব না করিয়া আমার নামের মধ্যে তোমার গৌরব করা, এবং তোমার নিজের উপর নির্ভর না করিয়া আমার উপর সম্পূর্ণ নির্ভর করাই তোমাকে মানায়, কারণ, আমি একাই, সর্বোপরি, তোমার প্রিয় হইতে বাসনা করি।	-৮

9. হে অস্তিত্বের সন্তান !
 আমার প্রেমই আমার দুর্গ। যে কেহ ইহার মধ্যে প্রবেশ করে, সে পরিত্রাণ লাভ করে ও নিরাপদ হয়; এবং যে কেহ উহা হইতে মুখ ফিরায়, সে বিপথগামী হয় ও বিনাশপ্রাপ্ত হয়।-৯

10. হে উপলব্ধির সন্তান!
 তুমিই আমার দুর্গ। সুতরাং তুমি ইহার মধ্যে প্রবেশ কর, যেন তুমি নিরাপদ হইতে পার। তোমার মধ্যে আমারই প্রেম; তোমারই নিকট হইতে তুমি তাহা চিনিয়া লও, যেন তুমি আমাকে তোমার নিকটে পাইতে পার।	-১০

11. হে অস্তিত্বের সন্তান!
 আমার শক্তির হস্ত দ্বারা তোমাকে প্রস্তুত করিয়াছি, এবং ক্ষমতার অঙ্গুলি দ্বারা আমি তোমাকে সৃষ্টি করিয়াছি, এবং আমার আলোকের সারভাগ তোমার মধ্যে গচ্ছিত রাখিয়াছি। সর্বোপরি ইহাতেই পরিতুষ্ট হও, কারণ আমার কর্ম পূর্ণতাসম্পন্ন, এবং আমার ফলপ্রসূ। ইহা অবিশ্বাস করিওনা এবং ইহাতে কোন সন্দেহ পোষণ করিও না।	-১১

12. হে অস্তিত্বের সন্তান!
 তুমিই আমার প্রদীপ, এবং আমার আলোক তোমারই মধ্যে। অতএব, সেখান হইতে আলোকপ্রাপ্ত হও, এবং আমাকে ব্যতীত অপর কাহাকেও অন্বেষণ করিও না, কারণ তোমাকে আমি ধনবানরূপে সৃষ্টি করিয়াছি এবং প্রচুর অনুগ্রহ তোমার উপর বর্ষণ করিয়াছি।-১২

13. হে পরমাত্মার সন্তান!
 আমি তোমাকে ধনশালী করিয়া সৃষ্টি করিয়াছি, কেন তুমি নিজেকে দরিদ্র করিতেছ? এবং আমি তোমাকে সম্ভান্ত করিয়া সৃষ্টি করিয়াছি, কিসের জন্য তুমি নিজেকে হীনপদস্থ করিতেছ ?এবং  জ্ঞানের সারাংশ হইতে তোমাকে প্রকাশ করিয়াছি ?এবং প্রেমের মৃত্তিকা হইতে তোমাকে আমি গঠিত করিয়াছি, কেন তুমি নিজেকে আমি ব্যতীত অপরের সহিত নিযুক্ত করিয়া রাখিয়াছ ?অতএব, তোমারই দিকে তোমার চক্ষু ফিরাও, যেন তুমি আমাকে তোমার ইমধ্যে অবস্থানকারী, শক্তিশালী, প্রতাপ সম্পন্ন ও চিরস্থায়ী দেখিতে পাও।	-১৩

14. হে মানব সন্তান !
 তুমি আমার সাম্রাজ্য, এবং আমার সাম্রাজ্য ধ্বংস হয়না। কি হেতু তোমার বিনাশকে ভয় কর ?এবং তুমি আমার আলোক, এবং আমার আলোক নির্বাপিত হইবেনা। কি কারণে তুমি তোমার নির্বাপণকে ভয় কর ? এবং তুমি আমার প্রভা, এবং আমার পরিচ্ছদ পর্দাবৃত হইবেনা। তুমি আমার পরিচ্ছদ, এবং আমার পরিচ্ছদ কখনও জীর্ণ হইবেনা। সুতরাং আমার প্রতি তোমার প্রেমে অটলভাবে বিশ্রাম লাভ কর, যেন তুমি উচ্চতম প্রভা রাজ্যের চক্রাবালে আমাকে প্রাপ্ত হইতে পার।	- ১৪

15. হে প্রকাশের সন্তান !
 আমার মুখমণ্ডলের দিকে তোমার মুখ ফিরাও, এবং আমি ব্যতীত অন্য সকল কিছু হইতে তোমার মুখ ফিরাইয়া লও, কারণ আমার রাজত্ব চিরস্থায়ী, ইহা কখনওপরিবর্তিত হইবেনা। এবং যদি তুমি আমাকে ব্যতীত অপরকে অন্বেষণ কর, তবে তুমি কখনও কৃতকার্য হইবেনা – যদিও তুমি অনাদি অনন্তকাল যাবৎবিশ্বব্রহ্মাণ্ডে অন্বেষণ কর।	- ১৫

16. হে আলোকের সন্তান !
 আমাকে ব্যতীত আর সকল কিছু ভুলিয়া যাও এবং আমার আত্মার দ্বারা সান্তনা লাভ কর। ইহা আমার আদেশের সারভাগ। অতএব, ইহার দিকে অগ্রবর্তী হও।	- ১৬

17. হে মানব সন্তান !
 আমি ব্যতীত অপর সকলকে ত্যাগ করিয়া আমাতেই পরিতুষ্ট থাক। এবং আমাকে ব্যতীত অপর কাহাকেও সাহায্যকারী স্বরূপ অনুসন্ধান করিওনা; কারণ, আমি ব্যতীত অপর কেহ কখনও তোমাকে তুষ্ট করিতে
 পারেনা। - ১৭

18. হে পরমাত্মার সন্তান !
 যাহা তোমার জন্য আমরা ইচ্ছা করিনা, তাহা আমার নিকট হইতে যাঞ্চা করিওনা। এবং যাহা আমরা তোমার জন্য ব্যবস্থা করিয়াছি, তাহাতে সন্তুষ্ট থাক, কারন ইহা তাহাই, যাহা তোমাকে লাভবান করেÑযদি তুমি ইহাতে পরিতৃপ্ত হও।	- ১৮

19. হে উচ্চতম দৃশ্যের সন্তান !
 আমার নিকট হইতে তোমার মধ্যে আমি এক আত্মা গচ্ছিত রাখিয়াছি, যেন তুমি আমার একজন বন্ধু হইতে পার। তবে কেন তুমি আমাকে পরিত্যাগ করিয়াছ এবং আমাকে ব্যতীত অপর একজনকে প্রেমাস্পদরূপেঅন্বেষণকরিয়াছ ?-১৯

20. হে পরমাত্মার সন্তান !
 তোমার উপর আমার অধিকার বৃহৎএবং ইহা বিস্মরণ হইতে পারে না। এবং তোমার প্রতি আমার কৃপা প্রচুর, এবং ইহা প্রচ্ছন্ন হইতে পারে না। এবং তোমার মধ্যে আমার প্রেম অবস্থান করিতেছে, ইহা পর্দাচ্ছাদিত রাখা যায় না। এবং তোমার প্রতি আমার আলোক সুস্পষ্ট, ইহা গোপন করা যায় না।- ২০

21. হে মানব সন্তান !
 আমি তোমার জন্য প্রভা বৃক্ষের পবিত্রতম ফলের ব্যবস্থা করিয়াছি। কি কারণে তুমি তাহা হইতে বিমুখ হইয়াছ এবং যাহা অপকৃষ্ট তাহাতে পরিতৃপ্ত রহিয়াছ ? অতএব, উচ্চতম রাজ্যে তোমার জন্য যাহা উৎকৃষ্ট সেই দিকে প্রত্যাবর্তন কর।	- ২১

22. হে পরমাত্মার সন্তান !
 আমি তোমাকে মহান করিয়া সৃষ্টি করিয়াছি, অথচ তুমি নিজেকে অবনমিত করিয়াছ। অতএব, তুমি যেই জন্য সৃষ্ট হইয়াছিলে, সেই দিকে আরোহণ কর।	- ২২

23. হে সর্বোৎকৃষ্টের সন্তান !
 চির-অন্তিত্বের দিকে আমি তোমাকে আহ্বান করিতেছি, অথচ তুমি ধ্বংস আকাঙ্খা করিতেছ। কেন তুমি আমাদের ইচ্ছা হইতে অন্য দিকে মুখ ফিরাইয়াছ এবং তোমার নিজের বাসনার দিকে অগ্রগামী
 হইয়াছে।  -২৩

24. হে মানব সন্তান !
 তোমার সীমা অতিক্রম করিওনা, এবং যাহা তোমার উপযোগী নয়, তাহা দাবি করিও না। তোমার সর্বশক্তিমান প্রভুর মুখমণ্ডলের উদ্দেশ্যে ভূমিগত প্রণতি জানাও।-২৪

25. হে পরমাত্মার সন্তান !
 তুমি দরিদ্রের উপর গর্ব করিও না, কারণ আমি তাহার অগ্রে অগ্রে গমন করি, এবং আমি তোমাকে তোমার দুর্দশাপন্ন অবস্থায় দেখি এবং তোমার জন্য সতত শোক প্রকাশ করিতে থাকি।	- ২৫

26. হে অস্তিত্বের সন্তান !
 কিরূপে তুমি তোমার নিজের দোষ বিস্মৃত হইয়াছ, এবং আমার সেবকদের দোষ কীর্তনে নিজেকে নিযুক্ত করিয়া রাখিয়াছ ?যে কেহ এরূপ করে, তাহার উপর আমার অভিসম্পাত।	- ২৬

27. হে মানবসন্তান !
 যতদিন তুমি স্বয়ং পাপ কর্মে রত থাকিবে, ততদিন তুমি অপরের দোষ কীর্তন করিওনা।যদি তুমি আমার এই আদেশের বিপরীত কার্যকর, তবে অভিশপ্ত তুমি এবং আমি স্বয়ং এই বিষয়ের সাক্ষী।–২৭

28. হে পরমাত্মার সন্তান !
 সত্য সত্যই জানিয়া রাখ যে, যে ব্যক্তি মানবগণকে ন্যায়পরায়ণ হইতে আদেশ দান করে এবং নিজে অন্যায় আচরণে লিপ্ত থাকে, সে নিশ্চয় আমার নহে, যদিও সে আমার নাম বহন করে।- ২৮

29. হে অস্তিত্বের সন্তান !
 যাহা তুমি তোমার নিজের প্রতি আরোপ করিতে ইচ্ছা করনা, তাহা তুমি করনা, তাহা তুমি বলিওনা।  ইহাই তোমার প্রতি আমার আদেশ। অতএব, ইহা পালন কর।- ২৯

30. হে মানব সন্তান !
 যদি আমার ভৃত্য তোমার নিকট হইতে কিছু প্রার্থনা করে, তবে তাহাকে নিরাশ করিয়া ফিরাইয়া দিওনা, কারণ, তাহার মুখমণ্ডল আমারই মুখমণ্ডল; অতএব, আমার সম্মুখে লজ্জিত হও।	- ৩০

31. হে সত্তার সন্তান !
 তোমার হিসাব-নিকাশের আহ্বান আসিবার পূর্বে তুমি প্রত্যহ নিজ কর্মের হিসাব-নিকাশ গ্রহণ কর, কারণ নিশ্চয়ই মৃত্যু হঠাৎতোমার উপর আসিয়া পড়িবে এবং তোমার নিজের কর্মের হিসাব দেওয়ার জন্য তোমাকে দাঁড়াইয়া যাইতে হইবে।-৩১

32. হে সর্বোচ্চের সন্তান !
 মৃত্যুকে আমি তোমার জন্য আনন্দ সংবাদতুল্য করিয়াছি, ইহার আগমনে কেন তুমি দুঃখিত ও নিরাশ হও ?এবং আলোককে আমি তোমার জন্য উজ্জ্বল প্রভা স্বরূপ সৃষ্টি করিয়াছিঃ কেন তুমি ইহা হইতে নিজেকে লুক্কায়িত রাখিতেছ ?	- ৩২

33. হে পরমাত্মার সন্তান !
 পবিত্রতার আত্মা তোমার প্রতি পুনর্মিলনের আনন্দ-বার্তা প্রদান করিতেছেঃ কি জন্য তুমি শোক কর ?এবং আদেশের আত্মা তোমাকে তাঁহার ধর্মে স্থির রাখেঃ কেন তুমি নিজেকে লুকাইয়া রাখ ?এবং মুখমণ্ডলের আলোক তোমার অগ্রে অগ্রে চলিতেছে। কি প্রকারে তুমি বিপথগামী হইতে পার ?	- ৩৩

34. হে পরমাত্মার সন্তান !
 আলোকের আনন্দ-বার্তা সহকারে আমি তোমাকে সংবাদ প্রদান করিতেছি।অতএব, তুমি তাহাকে আনন্দিত হও। এবং পবিত্রতার প্রাঙ্গণের দিকে আমি তোমাকে আহবান করিতেছি। তাহাতে তুমি অবস্থান কর, যেন তুমি অনন্তকাল যাবৎবিশ্রাম করিতে পার।- ৩৪

35. হে মানব সন্তান !
 আমাদের নিকট হইতে তোমার দূরবর্তিতার কারণ ব্যতীত অন্য কোন কারণে তুমি শোক করিও না। এবং আমাদের নিকট তোমার নিকটবর্তিতা ও প্রত্যাগমন ব্যতীত অন্য কোন কারণে তুমি উৎফুল্ল হইও না।	- ৩৫

36. হে মানব সন্তান !
 তোমার হৃদয়ের আনন্দে আহলাদিত হও, যেন তুমি আমার সাক্ষাৎকার লাভ করিতে পার এবং আমার সৌন্দর্য প্রতিফলিত করিবার উপযোগী হইতে পার।- ৩৬

37. হে মানব সন্তান !
 আমার সুন্দর পরিচ্ছদ হইতে তোমার নিজেকে বঞ্চিত করিওনা, এবং আমার আশ্চর্যজনক প্রস্রবনে তোমার প্রাপ্য অংশের অধিকার হইতে নিজেকে বিচ্যুত করিওনা, যেন পিপাসা তোমাকে অনন্তকাল যাবৎ আক্রমণ করিতেনা পারে।	- ৩৭

38. হে অস্তিত্বের সন্তান !
 আমার প্রতি তোমার প্রেমের নির্দেশনস্বরূপ আমার বিধি-নিষেধ প্রতিপালন কর, এবং যদি তুমি আমার সন্তোষ লাভ করিতে চাহ, তবে তুমি যাহা বাসনা কর তাহা তোমার নিজের জন্য নিষিদ্ধ কর।	- ৩৮

39. হে মানব সন্তান !
 যদি তুমি আমার সুষমা-সৌন্দর্য ভালবাস, তাহা হইলে আমার আদেশ-নিষেধ পরিত্যাগ করিওনা, এবং যদি তুমি আমার সন্তোষ লাভ করিতে ইচ্ছা কর, তবে আমার উপদেশাবলী ভুলিয়া যাইওনা।	- ৩৯

40. হে মানব সন্তান !
 যদি তুমি বিশ্বের সমগ্র বিশালতা তন্নতন্ন করিয়া অনুসন্ধান কর এবং তৎপর আকাশ মণ্ডলের বিস্তীর্ণক্ষেত্র দ্রুতগতিতে অতিক্রম কর, তবুও আমাদের আদেশের নিকট বশ্যতা স্বীকার ব্যতীত এবং আমাদের মুখমণ্ডলের সম্মুখে বিনয়-ভক্তি ব্যতীত অন্য কোথাও বিশ্রাম পাইবেনা।	- ৪০

41. হে মানব সন্তান !
 আমার ধর্মাদেশের মহত্ত্বের স্তুতিগান কর, যেন আমি আমার মহত্ত্বের গূঢ়তত্ত্ব তোমার নিকট প্রকটিত করিতে পারি, এবং চিরস্থায়ী আলোক সহকারে তোমার উপর দীপ্তিমান হইতে পারি।	- ৪১

42. হে মানব সন্তান !
 আমার সম্মুখে বিনীত হও, যেন আমি তোমার নিকট অবতরণ করিতে পারি এবং আমার প্রত্যাদিষ্ট ধর্মকে জয়যুক্ত করিবার জন্য সাহায্যকারী হও, যেন তুমি আমার রাজ্যে জয়লাভকারী হইতে পার।	- ৪২

43. হে অস্তিত্বের সন্তান !
 আমার পৃথিবীতে আমাকে স্মরণ কর, যেন আমি আমার স্বর্গে তোমাকে স্মরণ করিতে পার, যেন ইহাতে তোমার চক্ষুও তৃপ্ত হইতে পারে এবং আমার চক্ষুও তৃপ্ত হইতে পারে।	- ৪৩

44. হে সিংহাসনের সন্তান !
 তোমার শ্রবণই আমার শ্রবণ; সুতরাং তুমি তদদ্বারা শ্রবণ কর। এবং তোমার দৃষ্টিই আমার সৃষ্টি; সুতরাং তদদ্বারা তুমি অবলোকন কর, যেন তুমি তোমার অন্তরাত্মার নিগূঢ়তম স্থানে আমার পবিত্রতা ও মহত্ত্ব সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণ করিতে পার, যেন আমি ও আমার মধ্যে তোমার জন্য একটি উচ্চ প্রভাসম্পন্ন পদের সাক্ষ্য দিতে পারি।	- ৪৪

45. হে সত্তার সন্তান !
 আমাতে পরিতুষ্ট হইয়া এবং আমার নির্বন্ধে কৃতজ্ঞ হইয়া, আমার পথে জীবন উৎসর্গ করার পন্থা অনুসন্ধান কর, এইরূপে যেন তুমি পরম প্রভার পটমণ্ডপে মহিমার চন্দ্রাতপরূপ পর্দার অন্তরালে আমার সহিত বিশ্রাম লাভ করিতে পার।	- ৪৫

46. হে মানব সন্তান !
 তুমি নিজ অবস্থা সম্বন্ধে গভীরভাবে চিন্তা কর এবং ভাবনা সহকারে তোমার কার্য কর। তুমি কি তোমার শয্যার উপর মৃত্যুমুখে পতিত হইতে ভালবাস, না, আমার পথে ধুলির উপর আত্ম-বলিদান করিতে ভালবাস, না, আমার সর্বোচ্চ স্বর্গে, আমার প্রত্যাদেশ ধর্মের প্রকাশস্বরূপ হইতে ও আমার আলোকের অভিব্যক্তি স্বরূপ হইতে বাসনা কর ?হে ভৃত্য, ন্যায়তঃবিচার কর।	- ৪৬

47. হে মানব সন্তান !
 আমার সুষমার শপথ। উভয় জগতের সৃষ্টি এবং উভয় আলোকের উজ্জ্বলতার শপথ। সৃষ্টি অপেক্ষা তোমার কেশরাশি তোমার রক্তে রঞ্জিত করা অধিকতর
 মহৎকার্য। সুতরাং; হে ভৃত্য, ইহা লাভ করিতে চেষ্টা কর।	- ৪৭

48. হে মানব সন্তান !
 প্রত্যেক বস্তুর কোন না কোন লক্ষণ আছে। এবংপ্রেমের লক্ষণ আমার নির্বন্ধে ধৈর্য এবং আমার অগ্নিপরীক্ষায় সহিষ্ণুতা।	- ৪৮

49. হে মানব সন্তান !
 সত্য প্রেমিক দুঃখ-কষ্টের জন্য লালায়িত হয়, যেমন বিদ্রোহী ব্যক্তি ক্ষমার জন্য এবং পাপী কৃপার জন্য প্রার্থী হইয়া থাকে।	- ৪৯

50. হে মানব সন্তান !
 যদি আমার পথে তোমার উপর কোন দুর্দশানা ঘটে, তবে তুমি কি প্রকারে তাহাদের পথে চলিতে পার, যাহারা আমার সন্তোষে পরিতুষ্ট? এবং যদি আমার সহিত সাক্ষাৎ করিবার বাসনা তোমাকে বিপদাপদে বিব্রত না করে; তবে কিরূপে তুমি আমার সৌন্দর্যের জন্য তোমার প্রেমের আলোকপাইতে পার ?	- ৫০

51. হে মানব সন্তান !
 আমার দুঃখ-ক্লেশ আমার অনুগ্রহ বিধান।বাহ্যতঃ ইহা আগুন ও প্রতিশোধ মাত্র; কিন্তু অভ্যন্তরে ইহা আলোক ও করুণা। অতএব, তদ্বভিমুখে দ্রুত অগ্রসর হও, যেন তুমি এক চিরস্থায়ী আলোক ও এক অবিনশ্বর আত্মা হইতে পার। ইহাই আমার আদেশ তোমার প্রতি, ইহা তুমি অবগত হও।	- ৫১

52. হে মানব সন্তান !
 যদি সৌভাগ্য তোমাকে দর্শন দেয়, তুমি উৎফুল্ল হইওনা এবং যদি অবমাননা হঠাৎ তোমার উপর আপতিত হয়, তবে তজ্জন্য শোক করিওনা; কারণ উভয়েই তাহাদের জন্য নির্দিষ্ট সময় অন্তে নষ্ট হইয়া যাইবে এবং ধ্বংস হইবে।	- ৫২

53. হে মানব সন্তান !
 যদি দরিদ্র্য তোমাকে স্পর্শ করে, তবে শোকা কুল হইওনা; কারণ ঐশ্বর্যের অধিপতি ঠিক সময়ে তোমার নিকট অবতরণ করিবেন। এবং অবমাননাকে ভয় করিওনা, কারণ ঐশী প্রভা ঠিক সময়ে তোমার প্রাপ্য হইবে।	- ৫৩

54. হে সত্তার সন্তান !
 যদি তুমি সনাতন অবিনশ্বর রাজত্ব এবং এই প্রাচীন চিরস্থায়ী জীবন ভালবাস, তবে এই নশ্বর ক্ষণস্থায়ী রাজত্ব পরিত্যাগ কর।	- ৫৪

55. হে সত্তার সন্তান !
 এই সংসারে নিজেকে লিপ্ত করিয়া রাখিও না, কারণ আমরা আগুন দ্বারা স্বর্ণের পরীক্ষা করিয়া থাকি, এবং স্বর্ণ দ্বারা ভৃত্যগণকে পরীক্ষা করি।	- ৫৫

56. হে মানব সন্তান !
 তুমি স্বর্ণ পাইতে বাসনা কর, আর আমি তাহা হইতে তোমার বিশোধন ইচ্ছা করি। এবং তাহাতে তুমি তোমার নিজের ঐশ্বর্য উপলব্ধি করিয়াছ, আর আমি তাহা হইতে তোমার পরিশুদ্ধতায় তোমার ঐশ্বর্য অনুভব করিয়াছি। আমার জীবনের শপথ! ইহা আমার জ্ঞান, আর উহা তোমার কল্পনা। আমার অভিপ্রায় তোমার অভিপ্রায়ের সহিত কিরূপে ঐক্য  হইতে পারে ?	- ৫৬

57. হে মানব সন্তান !
 আমার সম্পদ আমার দরিদ্রের মধ্যে বিতরণ কর, যেন স্বর্গে তুমি অসীম অবিনশ্বর প্রভার ভাণ্ডার হইতে এবং অবিনাশী শক্তির ও আশিসের ধনাগার হইতে গ্রহণ করিতে পার। কিন্তু আমার জীবনের শপথ !তোমার আত্মাকে বিসর্জন করা অধিকতর যশস্কর বিষয়, যদি তুমি আমার চক্ষু সহকারে দেখিতে সক্ষম হইতে।	- ৫৭

58. হে মানব সন্তান !
 সত্তার মন্দিরই আমার সিংহাসন। সকল বস্তুর সম্বন্ধ হইতে ইহাকে পরি®কৃত কর, যেন তাহাতে আমি অবস্থান করিতে পারি এবং সদুপরি সিংহাসনারূঢ় হইতে পারি।	- ৫৮

59. হে সত্তার সন্তান !
 তোমার হৃদয়ই আমার আবাস; আমার অবতরণের জন্য ইহাকে পবিত্র কর। এবং তোমার আত্মাই আমার প্রত্যাদেশস্থল, আমার প্রকাশের জন্য ইহাকে পরিস্কৃত কর	- ৫৯

60. হে মানব সন্তান !
 আমার বক্ষ অন্তরে তোমার হস্তু প্রবেশ করাও, যেন আমি জাজ্জ্বল্যমান ও উজ্জ্বল হইয়া তোমার ঊর্ধ্বে উত্থিত হইতে পারি।	- ৬০

61. হে মানব সন্তান !
 আমার স্বর্গে আরোহন কর, যেন তুমি আমার সহিত চিরস্থায়ী পুনর্মিলনের আনন্দ পাইতে পার, এবং
 আমার অবিনাশী  প্রভার পানপাত্র হইতে অতুলনীয় অপ্রমেয় পবিত্র সুস্বাদু মদিরা পর্যাপ্ত পরিমাণে পান করিতে পার।	- ৬১

62. হে মানব সন্তান !
 তোমার উপর অনেক দিবস অতীত হইয়া গিয়াছে অথচ তুমি নিজেকে তোমার নিজের খেয়াল ও অলস কল্পনায় নিযুক্ত করিয়া রাখিয়াছ। আর কতদিন তুমি তোমার শয্যায় নিদ্রিত থাকিবে ? নিদ্রা হইতে তোমার মস্তক উত্তোলন কর, কারণ সূর্য অস্তাচলের উদ্দেশ্যে চক্রবালে অধিরোহণ করিয়াছে, হয়ত ইহা সৌন্দর্যের আলোক রাশি সহকারে তোমার উপর দীপ্তিমান হইবে।	- ৬২

63. হে মানব সন্তান !
 পবিত্র পর্বতের চক্রবালের ঊর্ধ্ব হইতে তোমার উপর আলোক দীপ্তিমান হইয়াছে, এবং পবিত্রতার আত্মা তোমার হৃদয়ের সিনাই”পর্বতে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করিয়াছে। অতএব, সন্দেহ ও অলস কল্পনার আবরণ হইতে নিজেকে মুক্ত কর, তৎপর এই প্রাঙ্গণে প্রবেশ কর, যেন তুমি চিরস্থায়ী জীবনের উপযুক্ত হইতে পার এবং  আমার মুখমণ্ডল অবলোকন করিবার যোগ্য হইতে পার, যেন মৃত্যু কিম্বা শ্রান্তি বা শোক তোমাকে আক্রমণ করিতে না পারে।	-৬৩

64. হে মানব সন্তান !
 আমার চিরস্থায়িত্ব আমারই সৃষ্টি; তোমারই জন্য আমি ইহা সৃষ্টি করিয়াছি; অতএব, ইহাকে তোমার দেহ মন্দিরের পরিচ্ছদস্বরূপ কর। আমার একত্ব আমারই পরিকল্পনা, আমি তোমারই জন্য ইহা উদ্ভাবন করিয়াছি। সুতরাং ইহা দ্বারা তুমি নিজেকে সুসজ্জিত কর, যেন অনন্তকাল যাবৎতুমি আমার চিরস্থায়ী সত্তার দিবস তারকারূপে অভিব্যক্ত থাকিতে পার।	- ৬৪

65. হে মানব সন্তান !
 আমার মহত্ত্ব তোমার প্রতি আমারই করুণার নিদর্শন। কিন্তু আমার যাহা উপযোগী তাহা কেহই উপলব্ধি করিতে ও বুঝিতে পারেনা। বাস্তবিক, ইহাকে আমি আমার ভৃত্যগণের প্রতি আমার দয়ার ও আমার জনগণের প্রতি আমার অনুকম্পার নিদর্শনস্বরূপ আমার নিহিত ভাণ্ডারে ও আমার আদেশের ধনাগারে সঞ্চিত করিয়া রাখিয়াছি।	- ৬৫

66. হে অস্তিত্বের সন্তান !
 আমার প্রতি তোমাদের প্রেম প্রদর্শন কার্যে তোমরা বাধাপ্রাপ্ত হইবে, এবং আমার নাম উল্লেখে আত্মাসমূহ বিচলিত হইবে, কারণ, মন আমাকে গ্রহণে অসমর্থ, এবং হৃদয় সমূহ আমাকে ধারণ করিতে সক্ষম নহে।	- ৬৬

67. হে মানব সন্তান !
 আমার আত্মা ও অনুকম্পার শপথ ! তঃপর আমার করুণার ও সৌন্দর্যের শপথ। যাহা আমি শক্তির রসনাসহকারে তোমার নিকট অবতীর্ণ করিয়াছি, এবং ক্ষমতার লেখনীর সহায়তায় তোমার সক্ষমতা অনুযায়ী ও তোমার বোধশক্তি অনুসারে আমরা অবতীর্ণ করিয়াছি, আমার পদযোগ্যতা ও বোধশক্তি অনুযায়ী নহে।	- ৬৭

68. হে মানব সন্তান !
 তোমরা কি জান, কেন আমরা তাহাদিগকে একই মৃত্তিকা হইতে সৃজন করিয়াছি ?ইহা এই জন্য যেন একে অপরের উপর অহঙ্কার করিতে না পারে, এবং যেন তোমরা প্রতিক্ষণই তোমাদের নিজেদের সৃষ্টি সম্বন্ধে ভাবিয়া দেখিতে পার। যেহেতু আমরা তোমাদিগকে একই পদার্থ হইতে সৃষ্টি করিয়াছি, তোমাদের উচিত যেন তোমরা সকলে এক আত্মাহ ও; যেহেতু তোমরা সকলে একই পদ সঞ্চারে ভ্রমণ কর, এবং একই মুখে আহার কর, একই দেশে অবস্থান কর, তোমাদের উচিত যেন তোমাদের সত্তা হইতে, তোমাদের কার্যকলাপ হইতে ও কর্মসমূহ হইতে একত্বের লক্ষণ সমূহ ও ত্যাগের সারাশ প্রকাশমান হইতে পারে। ইহাই তোমাদের প্রতি আমার উপদেশ, হে আলোকের জনমণ্ডলি! অতএব, যতœসহকারে এই উপদেশ গ্রহণ কর, যেন তোমরা অত্যাশ্চার্য শক্তিশালী প্রভা হইতে পবিত্রতার ফলসমূহ প্রাপ্ত হইতে পার।	- ৬৮

69. হে পরমাত্মার সন্তানগণ !
 তোমরা আমার ধনভাণ্ডার সমূহ, কারণ তোমাদেরই মধ্যে আমি আমার গূঢ়তত্ত্বের মুক্তাগুলি ও আমার জ্ঞানের রতœরাজি সঞ্চিত করিয়া রাখিয়াছি। অতএব, আমার ভৃত্যগণের মধ্যে  যাহারা অপরিচিত এবং  আমার জনগণের মধ্যে  যাহারা দুষ্ট তাহাদের নিকট হইতে ইহাদিগকে রক্ষা কর।	- ৬৯

70. হে তাঁহার সন্তান, যিনি তাঁহার নিজ রাজ্যে নিজেই নিজ শক্তিতে দাঁড়াইয়াছেন !
 জানিয়া রাখ, আমি পবিত্রতার সুমধুর সৌরভ সম্পূর্ণরূপে তোমারই দিকে প্রেরণ করিয়াছি এবং তোমারই উপর আমার অনুগ্রহ পরিপূর্ণ করিয়াছি, এবং আমার নিজের জন্য  যাহা বাসনা করিয়াছি তাহাই তোমার জন্য ইচ্ছা করিয়াছি। অতএব, আমার সন্তোষে পরিতুষ্ট হও এবং আমার নিকট কৃতজ্ঞ হও।	- ৭০

71. হে মানব সন্তান !
 যে সমুদয় আমরা তোমার নিকট প্রকাশিত করিয়াছি, সে সব তোমার আত্মার ফলকে, আলোকের মসী সহকারে লিখিয়া রাখ। যদি ইহা তোমার ক্ষমতার বহির্ভুত হয়, তাহা হইলে তোমার হৃদয়ের নির্যাস দ্বারা কালী প্রস্তুত কর, এবং যদি তুমি তাহাও করিতে অসমর্থ  হও, তবে আমার ধর্মের পথে পাত রক্তিম রক্তের কালী দ্বারা তাহা লিপিবদ্ধকর। বাস্তবিক ইহাই আমার নিকট সর্বাপেক্ষা সুমধুর, যেন ইহার আলোকে চিরকাল যাবৎ স্থায়ী হইতে পারে।	- ৭১


=============================
Persian

1. হে অর্ন্তদৃষ্টি ও শ্রবণশক্তি সম্পন্ন লোকগণ !
 প্রেমাস্পদের প্রথম আহ্বান এইঃ হে নিগূঢ়তত্ত্বের বুলবুলপক্ষী! পরমাত্মার গোলাপ-উদ্যান ব্যতীত অন্য কোথাও আশ্রয় গ্রহণ করিওনা। হে প্রেমের সোলায়মানের বার্তাবহ! প্রেমাস্পদের সেবা রাজ্য ব্যতীত অন্য কোনস্থানে বাসস্থল অনুসন্ধান করিও না।হে অমরত্বের অমরপক্ষী !বিশ্বস্ততার পর্বত ব্যতীত কুত্রাপি বাসস্থান গ্রহণকরিও না। ইহাই তোমার বাসস্থান, যদি তুমি অসীমের রাজ্যে আত্মার ডানা সহকারে উড্ডীন হও, এবং যদি তোমার প্রকৃত বাসস্থানে পৌঁছিতে ইচ্ছা কর।	- ১

2. হে পরমাত্মার সন্তান !
 প্রত্যেক পক্ষী তাহার আপন নীড় অন্বেষণ করে, প্রত্যেক বুলবুল পুষ্পের কমনীয় কান্তি বাসনা করে। কিন্তু মানবের হৃদয়-পাখিগুলি, যাহারা নশ্বর ধূলিতে পরিতৃপ্ত, তাহারা তাহাদের চিরস্থায়ী নীড় হইতে অনেক দূরে রহিয়াছে, এবং দূরত্বের পঙ্কিলে নিবদ্ধ হইয়া নৈকট্যের পুষ্পরাজি হইতে বঞ্চিত আছে। আহা! ইহা কিরূপ অদ্ভূত, কিরূপ শোচনীয় ও কিরূপ দুঃখজনক অবস্থা একটি মাত্র পান-পাত্রের জন্য তাহারা পরম স্বর্গীয় বন্ধুর সাগর তরঙ্গগুলি হইতে নিজেদের বঞ্চিত করিয়া রাখিয়াছে, এবং প্রভার স্বর্গের চক্রবাল হইতে দূরে অবস্থান করিয়া রহিয়াছে।	-২

3. হে বন্ধু !
 তোমার হৃদয়-উদ্যানে প্রেমের গোলাপ ব্যতীত অন্য কিছুই রোপণ করিওনা। এবং প্রেম ও স্পৃহার বুলবুলের অঞ্চল হইতে তোমার হস্তমুষ্টি শিথিল করিওনা ।পুণ্যবান লোকদের সাহচর্যকে মূল্যবান জ্ঞান কর, এবং অধার্মিকের সঙ্গ হইতে নিজেকে সরাইয়া লও।	- ৩

4. হে ন্যায়পরায়ণতার সন্তান !
 কোন প্রেমিক তাহার প্রেমাস্পদের দেশ ব্যতীত অন্যত্র বাসস্থান গ্রহণ করে ? কোন অন্বেষণকারী তাহার অভিস্পিতজন হইতে দূরে কোথাও বিশ্রাম অন্বেষণ করে ?প্রকৃত প্রেমিকের পক্ষে পুনর্মিলনই জীবন এবং বিচ্ছেদই মৃত্যু, তাহার বক্ষঃস্থল  ধৈর্যবিহীন এবং তাহার অন্তর শান্তিশূন্য। সে তাহার প্রেমাস্পদের উচ্চ পর্বতে দ্রুত গতিতে পৌঁছিবার জন্য শত সহস্র জীবন পরিহার করে।	- ৪

5. হে ধূলির সন্তান !
 আমি তোমাকে নিশ্চিত করিয়া বলিতেছি, যেই ব্যক্তি অনর্থক বিবাদ করে, এবং আপন ভ্রাতার উপর নিজেকে শ্রেষ্ঠতা দান করিতে চায়, সে মানবের মধ্যে নিতান্ত অসাবধান। বল, হে ভ্রাতৃবর্গ, কর্ম দ্বারা নিজেকে বিভূষিত কর, বাক্য দ্বারা নহে।	- ৫

6. হে মৃত্তিকার সন্তান !
 সত্য সত্যই জানিয়া রাখ, যে হৃদয়ে অতি সামান্য ঈর্ষার ভাবও অবশিষ্ট থাকে, তাহা কখনও আমার চিরস্থায়ী রাজ্য লাভ করিবে না, আর আমার পবিত্র রাজ্য হইতে সঞ্চারিত পবিত্রতার সুমধুর সৌরভ সমূহ অনুভব করিবেনা।	- ৬

7. হে প্রেমের সন্তান !
 নৈকট্যের উচ্চতম প্রভাময় প্রান্তর-প্রদেশ ও প্রেমের উন্নত স্বর্গীয় প্রেম বৃক্ষ হইতে তুমি মাত্র একপদ ব্যবধানে আছ। তুমি একপদ অগ্রসর হও, এবং দ্বিতীয় পদ সাহায্যে অবিনশ্বর রাজ্যের দিকে অগ্রবর্তী হও এবং চিরস্থায়িত্বের পটমণ্ডপে প্রবেশ কর। অতঃপর যাহা প্রভার লেখনী হইতে প্রকাশিত হইতেছে তাহা মনোযোগ সহকারে শ্রবণ কর।	- ৭

8. হে প্রভার সন্তান !
 পবিত্রতার পথে দ্রুত অগ্রবর্তী হও এবং আমার সহিত অন্তরঙ্গতার স্বর্গে প্রবেশ কর। পরমাত্মার পালিশ দ্বারা অন্তর পরি®কৃত কর এবং সর্বোচ্চতম পুরুষের প্রাঙ্গণের দিকে অগ্রসর হইবার জন্য ত্বরান্বিত হও।	- ৮

9. হে ক্ষণস্থায়ী ছায়া !
 সংশয়ের নিম্নতর স্তরগুলি অতিক্রম কর এবং নিশ্চয়তার প্রভাময় উন্নত শিখরে আরোহণ কর। সত্যের চক্ষু উন্মিলিত কর, যেন তুমি প্রকাশ্য উজ্জ্বল সুষমা দর্শন করিতে পার এবং বলিতে পার ঈশ্বর পবিত্র হউন, তিনি সর্বোৎকৃষ্ট সৃষ্টিকর্তা।	- ৯

10. হে বাসনার সন্তান !
 সত্য সত্যই এদিকে কর্ণপাত করঃ নশ্বর চক্ষু কদাচ চিরস্থায়ী সুষমা অনুভব করিবেনা এবং জীবনহীন প্রাণহীন মৃক্তিকা ব্যতীত আর কিছুতে আনন্দ উপভোগ করিবেনা; কারণ প্রত্যেক অনুরূপ অনুরূপকেই অন্বেষণ করে, এবং ইহার স্ব-জাতের সহিত ইহার মিল আছে।	- ১০

11. হে ধূলির সন্তান !
 অন্ধ হও, যেন আমার সুষমা দর্শন করিতে পার। এবং বধির হও, যেন তুমি আমার মধুর সঙ্গীত ধ্বনি এবং কণ্ঠস্বর শ্রবণ করিতে পার। এবং অজ্ঞ হও, যেন আমার জ্ঞানের অংশ উপভোগ করিতে পার !এবং দরিদ্র হও, যেন আমার অনন্ত সম্পদ-সমুদ্রের এক চিরস্থায়ী অংশ প্রাপ্ত হইতে পার। অন্ধ হও, অর্থাৎআমার সৌন্দর্য  দর্শন ব্যতীত অপর সকল হইতে; এবং বধির হও, অর্থাৎ আমার বাক্য ব্যতীত অপর সকলের বাক্য  শ্রণ হইতে; এবং অজ্ঞ হও, অর্থাৎ আমার জ্ঞান ব্যতীত অপর সকলের জ্ঞান হইতে যেন তুমি পবিত্র চক্ষু সহকারে ও উৎকৃষ্ট অন্তরে এবং সতর্ক কর্ণের সহায়তায় আমারপবিত্র প্রাঙ্গণে প্রবেশ করিতে পার।	- ১১

12. হে দুই চক্ষু বিশিষ্ট মানব !
 এক চক্ষু বন্ধ কর এবং অপর চক্ষু উন্মুক্ত কর। একটি বন্ধ কর অর্থাৎ পৃথিবী ও পৃথিবীতে যাহারা ও যাহা আছে তাহাদের হইতে অপরটি উন্মুক্ত কর অর্থাৎ প্রেমাস্পদের পবিত্র সুষমার দিকে।	- ১২

13. হে আমার সন্তানগণ !
 আমি ভয় করি, তোমরা স্বর্গীয় বুলবুলের স্বর মাধুর্য হইতে বঞ্চিত হইয়া নশ্বররাজ্যে  প্রাত্যাবর্তন করিবে এবং গোলাপ পুষ্পের সৌন্দর্য দর্শন না করিয়া সলিল ও কর্দমে পরিণত হইবে।	- ১৩

14. হে বন্ধুগণ !
 অনন্ত সুষমা পরিত্যাগ করিযা নশ্বর সৌন্দর্যের দিকে অগ্রসর হইওনা। এবং এই নশ্বর ধূলির সংসারের প্রতি তোমার অন্তরে আসক্তি স্থাপন করিও না।	- ১৪

15. হে পরমাত্মার সন্তান !
 সময় আসিতেছে যখন পবিত্রতার বুলবুল পক্ষী অন্তনিঘূঢ় রহস্যাবলী  আর অধিককাল প্রকটিত করিবে না এবং সকলেই স্বর্গের সুমধুর করুণা সঙ্গীত ও স্বর্গীয় পবিত্র আহবান ধ্বনি হইতে বঞ্চিত হইবে।	-১৫

16. হে অসাবধানতার সারসত্তা !
 হায় !একই রসনা দ্বারা শত সহস্র দুর্জ্ঞেয় আধ্যাত্ম আদর্শ ভাষা উচ্চারিত, এবং  একই সঙ্গীতের মধ্যে শত সহস্র নিহিত রহস্য প্রকাশিত; কিন্তু কোন কর্ণই নাই যে তারা শ্রবণ করে, এবং কোন অন্তর নাই যে একটি মাত্র অক্ষরও উপলব্ধি করিতে পারে।	- ১৬

17. হে সহকর্মীগণ !
 স্থানহীন সত্তার দ্বার সমূহ উন্মুক্ত করা হইয়াছে, এবং প্রেমাস্পদের নগর প্রেমিকগণের রক্তে অলঙ্কৃত ও সুশোভিত, অথচ অতি অল্প সংখ্যক লোক ব্যতীত সকলেই এই আধ্যাত্মিক নগর হইতে বঞ্চিত রহিয়াছে।এবং এই অল্প সংখ্যার মধ্যেও কেবল অতি ক্ষুদ্র মুষ্ঠিমেয় সংখ্যাই পবিত্র হৃদয় ও পূত আত্মাসম্পন্ন দৃস্ট হইয়াছে।	- ১৭

18. হে সর্বোচ্চ মনোরম স্বর্গের অধিবাসীগণ !
 নিশ্চয়তার লোকগণকে অবগত করাও যে, পবিত্রতার মুক্ত দরবার প্রাঙ্গণের স্বর্গীয় উদ্যানের সন্নিকটে এক নব উদ্যান দৃশ্যমান হইয়াছে এবং উচ্চতম স্থানের অধিবাসীগণ ও উন্নততম স্বর্গের অধিকারীগণ ইহার চতুর্দিকে চক্রাকারে পরিভ্রমণ করে। অতঃপর চেষ্টা কর যেন সেই উচ্চ পদপ্রাপ্ত হইতে পার এবং ইহার রক্তবর্ণ সুন্দর বায়ু পুষ্প হইতে প্রেমের রহস্যাবলীর সত্য সমূহ উদঘাটন করিতে পার, এবং ইহার অনন্ত ফল সমূহ হইতে ঐশী একত্বের পূর্ণ  জ্ঞানের নিগূঢ় তত্ত্ব অবগত হইতে পার।যাহারা বিশ্বাসের সহিত এখানে প্রবেশ করে, তাহাদের চক্ষু বড়ই উজ্জ্বল ও সুশান্ত।	- ১৮

19. হে বাসনার সন্তান !
 তোমরা কিসেই উজ্জ্বল সত্য প্রভাতকে ভুলিয়া গিয়াছ; যখন আমার সমক্ষে তোমাদের সকলেই সেই স্বর্গীয় প্রাঙ্গণে সেই মহান স্বর্গেরোপিত জীবন-বৃক্ষের ছায়াতলে একত্রিত হইয়াছিলে, তখন আমি তোমাদিগকে তিনটি পবিত্র বাক্য সম্বোধন করিাছিলাম? তোমরা তাহা শ্রবণ করিয়াছিলে এবং ভীত ও বিহবল হইয়াছিলে। বাক্যগুলি এইঃ হেবন্ধুগণ! আমার অভিলাষ অপেক্ষা তোমাদের বাসনা পছন্দ করিও না; তোমাদের জন্য যাহা আমি বাসনা করিনা তাহা কখনও বাসনা করিও না এবং  পার্থিব অনুরাগ ও বাসনায় কলুষিত প্রাণহীন অন্তরের সহিত আমার সমীপবর্তী হইওনা।”যদি তোমরা তোমাদের হৃদয় পবিত্র কর, তবে সেই প্রাঙ্গণের অবস্থা ও সেই মুক্ত প্রাঙ্গণের পরিবেষ্টনী তোমাদের দৃষ্টিগোচর হইবে এবং আমার বর্ণনার সত্যতা তোমাদের সকলের নিকট উন্মুক্ত হইবে।	- ১৯
 স্বর্গের পঞ্চম ফলক লিপিতে পবিত্রতম পংক্তিগুলির অষ্টমপংক্তিতে, তিনি অবতীর্ণ করিতেছেন:

20. হে অসাবধানতার পালঙ্কে শায়িত মৃতবৎ ব্যক্তিগণ !
 শতাব্দী সমূহ অতীত হইয়া গিয়াছে, এবং তোমাদের মূল্যবান জীবন প্রায় সমাপ্ত হইয়া গিয়াছে, অথচ তোমাদের নিকট হইতে পবিত্রতার একটি শাব্দও আমাদের পবিত্রতার প্রাঙ্গণে আসিয়া পৌঁছে নাই। যদিও তোমরা মুখে ঈশ্বরের অদ্বিতীয় ধর্মের বাক্য তোমাদের রসনার উপর দিয়া চালাইয়া যাইতেছ। আমার ঘৃণাকারীকে তোমরা ভালবাসিয়াছ, এবং আমার পৃথিবীতে তোমরা পূর্ণ আনন্দ ও প্রসন্নচিত্তে বিচরণ করিতেছ, অথচ তোমরা এই বিষয়ে উদাসীন যে আমার মৃত্তিকা তোমাদের অত্যন্ত ঘৃণা করে এবং পৃথিবীস্থ সকল কিছুই তোমাদের নিকট হইতে পলায়নপর। যদি অল্পক্ষণের জন্য তোমরা তোমাদের চক্ষু খুলিতে, তবে তোমরা এই আনন্দ অপেক্ষা শত সহস্র শোক অধিকতর বাঞ্ছনীয় মনে করিতে এবং মৃত্যুকে এই জীবন অপেক্ষা অধিকত রশ্রেয়ঃ মনে করিতে।	- ২০

21. হে চলনশীল ধূলির সমষ্টি !
 আমি তোমার প্রতি আসক্ত, অথচ তুমি আমা হইতে নিরাশ। তোমার বিদ্রোহের তরবারি তোমার আশা-বৃক্ষের মূল উৎপাটন করিয়াছ। এবং সকল অবস্থাতে আমি তোমার নিকটবর্তী, কিন্তু তুমি সর্বদাই আমার নিকট হইতে দূরে অবস্থান কর। এবং আমি তোমার জন্য অবিনশ্বর গৌরব মনোনীত করিয়াছি, অথচ তুমি নিজের জন্য অপরিসীম অবমাননা নির্বাচিত করিয়াছ। এখনও যখন সময় অবশিষ্ট আছে, ফিরিয়া আস, সুযোগ হারাইও না।	- ২১

22. হে বাসনার সন্তান !
 জ্ঞানবান ও দৃষ্টি সম্পন্ন ব্যক্তিগণ অনেক বৎসর চেষ্টা করিয়াও সর্ব প্রভাময়ের সান্নিধ্য লাভে অসমর্থ হইয়াছে। এবং তাহাদের সমস্ত জীবন ব্যয় করিয়াও সুষমা সম্পন্ন মুখমণ্ডল দর্শন করিতে পারে নাই। কিন্তু তুমি সামান্য চেষ্টা না করিয়াও লক্ষ্যস্থলে পৌঁছিয়াছ, এবং বিনা অন্বেষণে লক্ষ্যবস্তু প্রাপ্ত হইয়াছ। অথচ এই সমুদয় পদবী ও পদ-মর্যাদা প্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও, তুমি তোমার নিজ স্বার্থের অন্তরাল দ্বারা এইরূপ আবৃত হইয়াছ যে তোমার চক্ষুদ্বয় প্রেমাস্পদের সৌন্দর্য দেখিতে পাইল না, এবং তোমার হস্ত প্রিয়তমের বস্ত্রাঞ্চল স্পর্শ করিল না। অতএব, হে চক্ষুষ্মান ব্যক্তিগণ ইহাতে আশ্চর্যন্বিত হও।	- ২২

23. হে প্রেম-রাজ্যের অধিবাসীগণ !
 নশ্বর বায়ু সমূহ চিরস্থায়ী বর্তিকাকে পরিবেষ্টন করিয়াছে, আধ্যাত্মিক স্বর্গীয় যুবকের সুষমা-সৌন্দর্য ধূলির অন্ধকারে আবৃত হইয়াছে। প্রেমের রাজাধিরাজ অত্যাচারী প্রজা বর্গের দ্বারা উৎপীড়িত হইতেছে, এবং পবিত্রতার পারাবত পেচকের থাবায় দৃঢ়রূপে ধৃত। প্রভা-রাজ্যের পটমণ্ডপের সকলেই ও স্বর্গীয় জনমণ্ডলী বিলাপ ও শোক প্রকাশ করিতেছে, অথচ তোমরা অসাবধানতার রাজ্যে পূর্ণ আরাম উপভোগ করিতেছ এবং নিজেদের বিশ্বস্ত বন্ধু বলিয়া গণ্য করিতেছ। অতএব, তোমাদের কল্পনা কতই নিরর্থক।	- ২৩

24. হে জ্ঞানী বলিয়া খ্যাত নির্বোধ লোকগণ !
 কেন তোমরা বাহ্যতঃ তোমাদিগকে মেষ পালক বলিয়া দাবি কর, অথচ অন্তরে তোমরা আমার মেশষপালের উপর মার্দুল মাত্র। তোমরা প্রভাতের পূর্বে উদিত ঐ
 নক্ষত্রের সদৃশ্য যাহা বাহ্যতঃ আমার নগরে ও রাজ্যের যাত্রীদলকে বিপথে ও ধ্বংসপথে পরিচালিত করে।	- ২৪

25. হে বাহ্যত: সুদর্শন ও অন্তরে মলিন!
 তোমার সাদৃশ্য পরিষ্কার অথচ তিক্ত জলের ন্যায় যাহা বাহ্যতঃ পূর্ণরূপে পবিত্র ও নির্মল দৃষ্ট হয়; কিন্তু যখন ইহা স্বর্গীয় পরীক্ষকের হস্তে পতিত হয়, ইহার এক বিন্দুও গৃহীত হয় না। হ্যাঁ, সত্য বটে, সূর্য-রশ্মি ধূলি ও দর্পণে সমভাবে পতিত হয়, তথাপি নক্ষত্র ও পৃথিবীর প্রতিফলনে পার্থক্য দেখ, বরং উভয়ের মধ্যে বিভিন্নতা অপরিমেয়।	- ২৫

26. হে আমার মৌখিক বন্ধু !
 একটুখানি চিন্তা কর! তুমি কি কখনও শুনিয়াছ যে, বন্ধু ও অপরিচিত ব্যক্তি একই হৃদয়ে বাস করে? অতএব, অপরিচিতকে হৃদয় হইতে বহিষ্কৃত কর, যেন প্রিয়তম নিজ আবাসে প্রবেশ করিতে পারে।	- ২৬

27. হে ধূলির সন্তান !
 মানবের হৃদয় ব্যতীত, স্বর্গ ও মর্তের সকল বস্তু তোমার জন্য নিয়োগ করিয়াছি, কেবল হৃদয়কে আমার সুষমা ও প্রভার প্রকাশের অবতরণ-স্থানরূপে নিযুক্ত করিয়াছিঃ কিন্তু তুমি আমার অবতরণ-স্থান ও আবাস-স্থান আমাকে ব্যতীত অপরকে প্রদান করিয়াছ। এইরূপে, প্রত্যেক যুগে যখন আমার পবিত্র প্রকাশ তাহার নিজ আবাস স্থানে যাইতে ইচ্ছা করিল, তখন সেখানে এক অপরিচিতকে দেখিতে পাইয়া, গৃহহীন অবস্থায়, দ্রুততর প্রেমাস্পদের পবিত্র প্রাঙ্গণের দিকে ছুটিয়া গেল।তথাপি আমি ইহা গোপন করিয়া রাখিয়াছি, ব্যক্ত করি নাই এবং তোমাকে লজ্জা দিতে ইচ্ছা করি নাই।	- ২৭

28. হে বাসনার সারসত্তা !
 অনেক প্রভাতকালে আমি স্থানহীনের উদয়াচল হইতে তোমার স্থানে আসিয়াছি, এবং তোমাকে আরামদায়ক শয্যয় আমি ব্যতীত অপরের সহিত ব্যাপৃত দেখিতে পাইয়াছি। আমি তৎক্ষণাৎ আধ্যাত্মিক বিদ্যুতের ন্যায়, রাজকীয় সম্মানের মেঘান্তরালে স্বীয় রাজ্যে প্রত্যাবর্তন করিয়াছি, এবং আমার নিজের নৈকট্যের নিভৃত আলয়ে পবিত্রতার রক্ষী সৈন্যবাহিনী সমূহের নিকট ইহা প্রকাশ করি নাই।	- ২৮

29. হে ঔদার্যের সন্তান !
 তুমি অনস্তিত্বের মরু প্রদেশ সমূহে ছিলে এবং তোমাকে আমার আদেশের মৃত্তিকা দ্বারা এই অস্তিত্ব জগতে প্রকাশিত করিয়াছি। সকল  সম্ভাব্য পরমাণু এবং সকল সৃষ্টিবস্তুর সারসত্তাকে তোমার শিক্ষার জন্য নিয়োজিত করিয়াছি। এইজন্য তোমার মাতৃ-জঠর হইতে বর্হিগত হইবার পূর্বে, আমি তোমার জন্য  স্বচ্ছ দুগ্ধের দুইটি প্রস্রবণের ব্যবস্থা করিয়াছি। এবং তোমাকে রক্ষা করার জন্য দুইটি চক্ষু প্রদান করিয়াছি। এবং সকলের অন্তরে তোমার ভালবাসার বীজ বপন করিয়াছি, এবং আমার প্রীতিপূর্ণ পবিত্র দয়া সহকারে তোমাকে আমি আমার অনুকম্পার ছায়াতলে প্রতিপালন করিয়াছি, এবং আমার অনুগ্রহের সারাৎসার দ্বারা তোমাকে রক্ষা করিয়াছি। এবং এই সকল কার্যে আমার কেবলমাত্র এই উদ্দেশ্য ছিল, যেন তুমি আমার চিরস্থায়ী রাজ্য লাভ করিতে পার, এবং আমার অদৃশ্য দান-উপহারের উপযুক্ত হইতে পার। কিন্তু, তুমি, হে অমনোযোগী, যখন পূর্ণ বয়স প্রাপ্ত হইলে, তুমি আমার চিরস্থায়ী রাজ্য লাভ করিতে পার, এবং আমার অদৃশ্য দান-উপহারের উপযুক্ত হইতে পার। কিন্তু, তুমি , হে অমনোযোগী, যখন পূর্ণ বয়সপ্রাপ্ত হইলে, তুমি আমার সকল দান-উপহার উপেক্ষা করিলে, এবং তোমার নিজের অলস কল্পনাগুলিতে মগ্ন রহিলে, এইরূপভাবে যে, তুমি আমাকে সম্পূর্ণরূপে বিস্মৃত হইলে, এবং প্রেমাস্পদের দ্বারদেশ পরিত্যাগ করিয়া শত্রুর বারান্দায় অবস্থান করিতেছিলে।	- ২৯

30. হে সংসারের ক্রীতদাস !
 অনেক প্রভাতে আমার অনুগ্রহের মৃদু সমীরণ তোমার উপর দিয়া প্রবাহিত হইয়া গিয়াছে এবং তোমাকে অবহেলার শয্যার উপর নিদ্রিত দেখিতে পাইয়াছে, এবং তোমার অবস্থান উপর ক্রন্দন করিয়া স্বস্থানে প্রস্থান করিয়াছে।	- ৩০

31. হে মৃত্তিকার সন্তান !
 যদি আমাকে পাইতে চাহ, তবে আমি ব্যতীত আর কাহাকেও অনুসন্ধান করিও না, এবং যদি আমার সৌন্দর্য দর্শন করিতে অভিলাষী হও, তবে পৃথিবীর লোকের নিকট হইতে তোমার চক্ষুর দৃষ্টি ফিরাইয়া লও, কারণ আমার ইচ্ছা ও আমি ভিন্ন অপরের ইচ্ছা, আগুন ও জলের সদৃশ যাহা একই মনে ও হৃদয়ে ধারণ করা যায় না।	- ৩১

32. হে বন্ধুতে পরিণত হওয়া আগন্তুক !
 তোমার হৃদয়-বর্তিকা আমার পরাক্রমের হস্ত দ্বারা প্রজ্জ্বলিত; বাসনা ও রিপুর প্রতিকূল বায়ু দ্বারা ইহাকে নির্বাপিত করিও না। এবং আমার স্মরণই তোমার সকল রোগের আরোগ্যকারী চিকিৎসক; ইহা কখনও ভুলিও না। আমার প্রেমকে তোমার মূলধনস্বরূপ কর, এবং ইহাকে তোমার চক্ষু ও জীবন তুল্য মূল্যবান মনে কর।	- ৩২

33. হে আমার ভ্রাতা !
 আমার সুমধুর রসনা হইতে আমার মনোরম বাক্য শ্রবণ কর।আমার শর্করাবর্শী ওষ্ঠাধর-রূপ প্রস্রবণ হইতে পবিত্র জীবন সলিল পান কর, অর্থাৎ তোমার হৃদয়ের পবিত্র ভূমিতে আমর ঐশীজ্ঞানের বীজ বপন কর, এবং ইহাকে নিশ্চয়তার সলিলে সিক্ত কর, যেন আমার জ্ঞান ও বিজ্ঞতার হরিৎ ও সতেজ পুষ্প তোমার হৃদয়ের পবিত্র নগরীতে প্রচুর ও সতেজভাবে উদগত হইতে পারে।	- ৩৩

34. হে আমার স্বর্গীয় বাগানের অধিবাসীগণ !
 আমার প্রীতিপূর্ণ করুণার হস্ত দ্বারা আমি তোমার প্রেম ও বন্ধুত্বের নব-বৃক্ষকে স্বর্গের পবিত্র উদ্যানে রোপন করিয়াছি, এবং আমার কোমল অনুকম্পারউৎকৃষ্ট বৃষ্টিপাত দ্বারা ইহাকে সিক্ত করিয়াছি। এক্ষণে, যেহেতু, ইহার ফল সুরক্ষিত থাকে এবং বাসনা ও রিপুর অগ্নিতে দগ্ধীভূত ও বিনষ্ট না হয়।	- ৩৪

35. হে আমার বন্ধুগণ !
 তোমার অজ্ঞতার প্রদীপ নির্বাপিত কর এবং হৃদয়ে ও অন্তরে পথ প্রদর্শনকারী চিরস্থায়ী অগ্নিশিখা প্রজ্জ্বলিত কর, কারণ অনতি বিলম্বে মানব মণ্ডলীর পরীক্ষকগণ পূজিত পুরুষের পবিত্র সন্নিধানের প্রাঙ্গণে পরিবত্রতম পুন্যভক্তি ব্যতীত আর কিছুই গ্রহণ করিবে না, এবং পবিত্র কার্যসমূহ ব্যতীত আর কিছুই অনুমোদন করিবে না।	- ৩৫

36. হে ধূলির সন্তান !
 লোকের মধ্যে উহারাই জ্ঞানী, যাহারা শ্রোতা না মিলিলে কথা বলেনা; যেমন পান-পাত্র পরিবেশক প্রার্থী না পাইলে পান-পাত্র পরিবেশন করে না, এবং প্রেমিক যেমন তাহার প্রেমাস্পদের সৌন্দর্য দেখিতে না
 পাইলে তাহার হৃদয়ের অন্তঃস্থল হইতে চিৎকার করিয়া উঠেনা। সুতরাং হৃদয়ের পবিত্র উর্বর ভূমিতে জ্ঞান ও বিজ্ঞানের বীজ সমূহ বপন কর এবং তাহাদিগকে সেখানে লুক্কায়িত রাখ, যে পর্যন্ত না ঐশী জ্ঞান-বিজ্ঞতার উদ্ভিদ হৃদয় হইতে উদগত হয়, কিন্তু কর্দম হইতে নহে।	- ৩৬
 ফলকলিপির প্রথম পংক্তিতে ইহা লিপিবদ্ধ এবং ঈশ্বরের পটমণ্ডপে পবিত্র প্রাঙ্গণের সংরক্ষণের অন্তরালে সংরক্ষিত রহিয়াছেঃ

37. হে আমার ভৃত্য !
 ইন্দ্রিয় বাসনার জন্য অবিনাশী রাজ্য পরিত্যাগ করিও না, এবং একটি পার্থিব কামনার জন্য স্বর্গীয় রাজত্ব ত্যাগ করিও না। ইহাই চিরস্থায়ী জীবন-প্রস্রবণ, যাহা দয়াময়ের লেখনীর স্রোতস্বতী হইতে চিরপ্রবাহিত। কতই সৌভাগ্যবান তাহারা, যাহারা ইহা পান করে।	- ৩৭

38. হে পরমাত্মার সন্তান !
 তোমার পিঞ্জর বিদীর্ণ কর, এবং প্রেমের অমর পক্ষীর ন্যায় পবিত্রতার আকাশ মণ্ডলে উড্ডীন হও; এবং তোমার নিজ স্বার্থ ত্যাগ কর, এবং অনুকম্পার স্বর্গীয় আত্মায় পরিপূর্ণ হইয়া স্বর্গীয় পবিত্র সমতল প্রান্তরে বিশ্রাম লাভ কর।	- ৩৮

39. হে ভস্মস্তূপের সন্তান !
 একটি ক্ষণস্থায়ী দিনের বিশ্রামে পরিতুষ্ট হইওনা এবং অবিনশ্বর চিরস্থায়ী বিশ্রাম হইতে বঞ্চিত হইওনা। চিরানন্দের অমর বাগানকে নশ্বর জগতের ধূলিকণার অগ্নিকুণ্ডের সহিত বিনিময় করিও না।তোমার কারাগার হইতে প্রভাময় সুন্দর জীবন-প্রান্তরে আরোহণ কর এবং নশ্বর পার্থিব পিঞ্জর হইতে স্থানহীন মনোমুগ্ধকারী স্বর্গীয় বাগানের দিকে উড্ডীন হও।	-৩৯

40. হে ভৃত্য আমার !
 এই পার্থিব বন্ধন হইতে নিজেকে মুক্ত কর এবং নিজ স্বার্থের কারাগার হইতে মুক্ত কর। সময়ের উচিত মূল্য উপলব্ধি কর, কারণ ইহাকে তুমি কখনও পুনরায় দেখিতে পাইবেনা এবং এই সুযোগ্য সময়  তুমি আর কখনও পাইবেনা।	- ৪০

41. হে আমার দাসীর সন্তান !
 যদি তুমি অবিনশ্বর রাজ্য দর্শন করিতে, তবে নিশ্চয়ই তুমি ক্ষণস্থায়ী সংসার ছাড়িয়া যাইতে চেষ্টা করিতে; কিন্তু একটি তোমার নিকট হইতে লুক্কায়িত রাখার এবং অপরটি তোমার নিকট প্রকাশিত করার মধ্যে নিগূঢ় ভেদ ও বিজ্ঞতা রহিয়াছে; পবিত্র অন্তঃকরণ ব্যতীত আর কেহ ইহা উপলব্ধি করিতে সক্ষম নহে।	- ৪১

42. হে ভৃত্য আমার !
 দ্বেষ হইতে তোমার অন্তর শুদ্ধ কর এবং হিংসা হইতে মুক্ত কর, একতার পবিত্র প্রাঙ্গণ-সান্নিধ্যে প্রবেশ কর।	- ৪২

43. হে আমার বন্ধুগণ !
 তোমরা পরম বন্ধুর উত্তম সন্তোষের মধ্যেই তাঁহার উত্তম সন্তোষ রহিয়াছে এবং থাকিবে, অর্থাৎ এক বন্ধু তাহার বন্ধুর ইচ্ছা ব্যতীত তাহার গৃহে প্রবেশ করিবেনা। এবং তাহার বন্ধুর ধন-সম্পত্তিতে হস্তক্ষেপ করিবেনা এবং তাহার নিজের সন্তোষকে বন্ধুর সন্তোষের উপর প্রাধান্য প্রদান করিবেনা। অতএব, হে অর্ন্তদৃষ্টিসম্পন্ন লোক, এই বিষয়ে অনুধাবন কর।	- ৪৩

44. হে আমার সিংহাসনের সহচর !
 মন্দ শুনিও না ও মন্দ দর্শন করিও না এবং নিজেকে হেয় করিও না এবং বিলাপ করিও না; অর্থাৎ মন্দ বলিও না, যেন তোমাকে মন্দ শুনিতে না হয়; এবং অন্যের দোষকে অতিরঞ্জিত করিওনা, যেন তোমার নিজের দোষ বড় না দেখায়; কাহারও অবমাননা অনুমোদন করিওনা, যেন তোমার নিজের অবমাননা অনাবৃত করা না হয়। অতঃপর, তোমার জীবনের দিনগুলি যাহা দ্রুত ধাবমান মুহূর্তে অপেক্ষা অল্পতর বিবেচিত হয়, তাহা নির্দোষ মনে, পবিত্র অন্তর ও বিশুদ্ধ, প্রকৃত ও পবিত্র হৃদয় সহকারে মুক্তমনে কাটাইতে পার, যেন তুমি মুক্ত পরিতুষ্ট হইয়া এই নশ্বর শরীর পরিত্যাগ করিয়া দুর্জ্ঞেয়  আধ্যাত্ম স্বর্গলোকে প্রত্যাবর্তন করিতে পার এবং অমর রাজ্যে চিরস্থায়ীরূপে অবস্থান করিতে পার।	- ৪৪

45. হায়! হায়! হে পার্থিব বাসনার প্রেমিকগণ !
 বিদ্যুতের ন্যায় ক্ষিপ্র গতিতে তোমরা আধ্যাত্মিক প্রেমাস্পদকে পরিত্যাগ করিয়া গিয়াছ; এবং পৈশাচিক কল্পনায় তোমাদের মন দৃঢ় সন্নিবিষ্ট করিয়াছ। তোমরা একটিমাত্র নিঃস্বার্থ শ্বাসও ত্যাগ কর নাই, আর তোমাদের হৃদয়-উদ্যান হইতে আত্মোৎসর্গের একটি মাত্র মৃদু-মন্দ সমীরণও প্রবাহিত হয় নাই।তোমরা প্রেমাস্পদের প্রেম মিশ্রিত পরামর্শ সমূহ বাতাসে নিক্ষেপ করিয়াছ, এবং তোমাদের হৃদয় ফলক হইতে তাহাদিগকে সম্পূর্ণরূপে মুছিয়া ফেলিয়াছ, এবং মাঠের পশুর ন্যায় বাসনা ও রিপুর চারণ ভূমিতে পরিতৃপ্তি লাভ করিতেছ।	- ৪৫

46. হে পরম পথের ভ্রাতৃবর্গ !
 কেন তোমরা প্রেমাস্পদের নামোচ্চারণের প্রতি উদাসীন রহিয়াছ এবং প্রিয়তম বন্ধুর পবিত্র সান্নিধ্য হইতে অনেক দূরে রহিয়াছ ? পরম সুষমা অনুপম পটমন্ডপে প্রভার সিংহাসনে সমাসীন, অথচ তোমরা তোমাদের বাসনা-প্রাণোদিত অলস কলহে ব্যাপৃত। পবিত্রতার সুমধুর সৌরভ রাশি মৃদুভাবে প্রবাহিত হইতেছে এবং বদান্যতার মৃদুমন্দ সমীরণ প্রবহমান হইয়াছে, তথাচ তোমরা ইহার ঘ্রাণ শক্তি হারাইয়া ফেলিয়াছ এবং ইহাদের সকল হইতে বঞ্চিত রহিয়াছ। হায়! হায়! তোমাদের জন্য এবং তাহাদের জন্য যাহারা তোমাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে এবং তোমাদের পথে বিচরণ করে।	- ৪৬

47. হে বাসনার সন্তান !
 বৃথা গর্বের পরিচ্ছদ পরিত্যাগ কর এবং ঔদ্ধত্যের পোশাক শরীর হইতে দূরে নিক্ষেপ কর। অদৃশ্য লেখনী দ্বারা পদ্মরাগমণি- ফলকে লিখিত ও লিপিবদ্ধ পবিত্রতার পংক্তি সমূহের তৃতীয় পংক্তিতে এইরূপ অভিব্যক্তঃ	- ৪৭

48. হে ভ্রাতৃবর্গ !
 পরস্পরের প্রতি সহিষ্ণু হও।পার্থিব দ্রব্য হইতে তোমাদের মন উঠাইয়া লও। গৌরবে অহংকৃত হইওনা, এবং অবমাননায় লজ্জিত হইওনা। আমার সৌন্দর্যের শপথ। সকলই আমি ধূলি হইতে সৃষ্টি করিয়াছি এবং নিশ্চয়ই তাহাদিগকে ধূলিতেই প্রত্যাবর্তন করাইব।	- ৪৮

49. হে ধূলির সন্তানগণ !
 ধনীগণকে দরিদ্রদের মধ্য-রাত্রির দীর্ঘ নিঃশ্বাস সম্বন্ধে অবগত করাও, পাছে অমনোযোগিতা তাহাদিগকে ধ্বংস করে, এবং তাহারা ঐশ্বর্য বৃক্ষের তাহাদের অংশ হইতে বঞ্চিত হয়। দান করা ও দানশীলতা আমারই গুণাবলী। অতএব, সুখী সে, যে আমার বিশেষণে নিজেকে বিভূশিত করে।- ৪৯

50. হে রিপুর সারৎসার !
 লোভ অবশ্য পরিত্যাগ করিতে হইবে, যেন তুমি পরিতোষ লাভ করিতে পার, কারণ লোভী চিরকাল বঞ্চিত হইয়াছে এবং পরিতুষ্ট ব্যক্তি সর্বদা প্রিয় ও প্রশংসিত !	- ৫০

51. হে আমার দাসীর সন্তান !
 দারিদ্র্যে উত্যক্ত হইওনা, এবং সম্পদে নিশ্চিন্ত হইওনা। কারণ  দারিদ্র্য সম্পদের অনুগামী হয়  এবং সকল সম্পদ দারিদ্র্যের অনুগামী হয়। কিন্তু ঈশ্বর ব্যতীত সর্ব বিষয়ে দরিদ্র হওয়া একটি মহান আশিস, ইহাকে ক্ষুদ্র জ্ঞান করিওনা, কারণ ইহা অবশেষে তোমাকে ঈশ্বর ভক্তিতে ধনী করিবে। এইরূপেই তুমি এই উক্তির মর্ম উপলব্ধি করিতে পারিবেঃ ”সত্যই তোমরা দরিদ্র”এবং পবিত্রবাণীঃ ”ঈশ্বরই সর্বাধিকারী”সত্য  প্রভাতের ন্যায় প্রেমিকের হৃদয়ের দিকমণ্ডল হইতে প্রোজ্জ্বল হইয়া প্রকাশিত হইবে এবং ঐশ্বর্যের সিংহাসনে নিরাপদে স্থিরভাবে অবস্থান করিবে।	- ৫১

52. হে অসাবধানতা ও রিপুর সন্তান !
 তোমরা আমার শত্রুকে আমার গৃহে প্রবেশাধিকার দান করিয়াছ, এবং আমার বন্ধুকে বহিষ্কৃত করিয়া দিয়াছ, কারণ তোমরা তোমাদের হৃদয়ে আমি ব্যতীত অপর একজনের ভালবাসাকে স্থান প্রদান করিয়াছ। বন্ধুর কথায় কর্ণপাত কর এবং তাহার স্বর্গের দিকে অগ্রবর্তী হও। অপ্রকৃত বন্ধুগণ নিজ নিজ স্বার্থান্বেষণে একে অন্যকে ভালবাসিয়াছে ও ভালবাসিয়া থাকে; কিন্তু প্রকৃত বন্ধু তোমারই জন্য তোমাকে ভালবাসিয়াছে ও ভালবাসে। বরং তিনি তোমাদের পথ- প্রদর্শনের জন্য অগণিত দুঃখ- ক্লেশ ভোগ করিয়াছেন। এইরূপ বন্ধুর প্রতি অকৃতজ্ঞ হইওনা, এবং তাঁহার বাসস্থানের দিকে দ্রুতগামী হও। ইহাই সত্য ও বিশ্বাসের বাক্যের সূর্য, যাহা সকল নামের অধিকারীর লেখনীর দিকমণ্ডল হইতে উদিত হইয়াছে। তোমাদের কর্ণসমূহ উন্মুক্ত কর যেন তোমরা তোমাদের রক্ষাকর্তা, স্বয়ং-সত্তা বিশিষ্ট ঈশ্বরের বাণী শ্রবণ করিতে পার।	- ৫২

53. হে আমার বন্ধুগণ !
 তোমরা জানিয়া রাখ যে, সম্পদ অন্বেষণকারী ও তার ঈপ্সিত বস্তুর মধ্যে, প্রেমিক ও প্রেমাস্পদের মধ্যে একটি প্রবল প্রতিবন্ধক। ধনবান ব্যক্তির মধ্যে অত্যল্প সংখ্যক ব্যতীত তাঁহার সান্নিধ্যের প্রাঙ্গণে কখনও পৌঁছিবে
 না, এবং সন্তোষ ও উৎসর্গের নগরে প্রবেশ লাভ করিবে না। সুতরাং ইহা কতই ভাল সেই ধনীর পক্ষে, যাহার সম্পদ চিরস্থায়ী সম্পদ হইতে তাহাকে বঞ্চিত করেনা। পরম মহীয়ান নামের শপথ। এইরূপ একজন ধনী ব্যক্তির ঔজ্জ্বল্য স্বর্গের অধিবাসীগণকে আলোকিত করিবে, যেমন সূর্য পৃথিবীর জনগণকে আলোকিত করে।	- ৫৩

54. হে পৃথিবীর ধনী ব্যক্তিগণ !
 তোমাদের মধ্যে দরিদ্র ব্যক্তিগণ আমার ন্যস্ত জিম্মা। অতএব, তোমরা আমার ন্যস্ত জিম্মার সঠিকভাবে তত্ত্বাবধান কর, এবং নিজেদের সুখ-সম্পদের ভোগে সম্পূর্ণরূপে প্রমত্ত থাকিও না।	- ৫৪

55. হে বাসনার সন্তান !
 ধন-সম্পদের কলুষ হইতে নিজেকে পরিশুদ্ধ কর, এবং পূর্ণ শান্তির সহিত দারিদ্র্যতার আকাশ মণ্ডলে অগ্রবর্তী হও, যেন তুমি ধ্বংসের প্রস্রবণ হইতে অমর জীবনের সুরা পান করিতে পার।	- ৫৫

56. হে আমার সন্তান !
 দুষ্ট লোকের সংস্রব দুঃখ বর্ধন করে, এবং পুণ্যবানদের সংসর্গ মনের মরিচা দূর করে। যে ব্যক্তি ঈশ্বরের সহিত কথোপকথন করিতে ইচ্ছা করে, তাহার প্রিয় পাত্রগণের সহিত সংসর্গস্থাপন করা, এবং যে ব্যক্তি ঈশ্বরের বাক্য  শুনিতে ইচ্ছা করে, সে তাঁহার মনোনীত ব্যক্তিগণের বাক্যে কর্ণপাত করুক।	- ৫৬

57. সাবধান হে ধূলির সন্তান !
 দুষ্ট লোকের সহিত মিলিত হইও না। এবং তাহার সাহচর্য অন্বেষণ করিও না, কারণ দুষ্ট লোকের সাহচর্য জীবনের আলোককে পরিতাপের দাবানলে পরিবর্তিত করে।	- ৫৭

58. হে আমার দাসীর সন্তান !
 যদি তুমি পবিত্রাত্মার কৃপা প্রার্থী হও পূণ্যবানদের সহিত সাহচর্য কর, কারণ পূণ্যবান লোক অবিনশ্বর পান-পাত্র পরিবেশকের হস্ত হইতে চিরস্থায়ী জীবনের পান-পাত্র সেবন করিয়াছে; এবং সত্য প্রভাতের ন্যায় উহারা মুতলোকের অন্তর সঞ্জীবিত, উজ্জ্বল ও আলোকিত করে।  -৫৮

59. হে অমনোযোগী ব্যক্তিগণ !
 মনে করিও না যে, হৃদয়ের রহস্যসমূহ লুক্কায়িত রহিয়াছে; বরং তোমরা নিশ্চিতরূপে জানিয়া রাখ যে, সেগুলি স্পষ্টাক্ষরে লিপিবদ্ধ এবং পবিত্র সান্নিধ্যে প্রকাশ্যভাবে দৃশ্যমান।-৫৯

60. হে বন্ধুগণ !
 আমি যথার্থরূপে বলিতেছি- তোমার অন্তরে যাহা কিছু লুক্কায়িত রাখিয়াছ, তাহার সকলই আমাদের নিকট দিবসের ন্যায় উন্মুক্ত, পরিষ্কার ও প্রকাশিত কিন্তু ইহারা যে গুপ্ত, তাহা আমাদের কৃপা ও অনুগ্রহের কারণে, তোমাদের যোগ্যতার কারণে নহে।	- ৬০

61. হে মানব সন্তান !
 আমার করুণার বিশাল জলধি হইতে আমি এক বিন্দু শিশির পৃথিবীর অধিবাসী
 জাতি সমূহের উপর বর্ষণ করিয়াছি, অথচ কাহাকেও সেই দিকে ফিরিতে দেখিতে পাই নাই; কারণ প্রত্যেকই একত্বের তৃপ্তিকর অমর স্বর্গীয় সুরা পরিত্যাগ করিয়া অপরিষ্কৃত সুরার জলের দিকে অগ্রবর্তী হইয়াছে। অবিনশ্বর সৌন্দর্যের পান-পাত্র দূরে নিক্ষেপ করিয়া তাহারা নশ্বর পান-পাত্রে পরিতুষ্ট রহিয়াছে। উহা কতই মন্দ, যাহাতে তাহারা পরিতুষ্ট রহিয়াছে।	- ৬১

62. হে ধূলির সন্তান !
 অবিনশ্বর প্রেমাস্পদের অনুপম সুরার প্রতি তোমার চক্ষু বন্ধ করিও না, এবং আবিলতাপূর্ণ নশ্বর মদিরার দিকে তোমার চক্ষু খুলিও না। একত্বের পান-পাত্র পরিবেশকের হস্ত হইতে চিরস্থায়ী পান-পাত্র গ্রহণ কর, যেন তুমি প্রত্যক্ষ জ্ঞানের অধিকারী হইতে পার, এবং যেন তুমি দূর্জ্ঞেয় আধ্যাত্মিক অদৃশ্য সত্তার রব শুনিতে পার।  বল, হে অকর্মণ্য ব্যক্তিগণ! আমার চিরস্থায়ী পবিত্র মদিরা হইতে কেন তোমরা নশ্বর সলিলের দিকে প্রত্যাবর্তন করিয়াছ ?- ৬২

63. বল হে পৃথিবীর লোকগণ !
 সুনিশ্চিতভাবে জানিয়া রাখ যে, এক আকস্মিক ভিষম বিপদ তোমাদের অুনসরণ করিতেছে এবং নিদারুণ শাস্তি তোমাদের জন্য প্রতীক্ষা করিতেছে। মনে করিওনা যে, তাহারা যাহা করিয়াছে তাহা আমার দৃষ্টি হইতে বিলুপ্ত হইয়াছে। আমার সুষমার শপথ !তোমাদের সমুদয় কার্যকলাপ স্পষ্টাক্ষরে ঈষৎ পীত বর্ণ প্রস্তর ফলকে আমার লেখনী খোদিত করিয়াছে।	- ৬৩

64. হে পৃথিবীর অত্যাচারী ব্যক্তিগণ !
 অত্যাচার হইতে তোমাদের হস্ত প্রত্যাহার কর; কারণ আমি কোন মানবের অত্যাচার ক্ষমা না করার জন্য প্রতিশ্রুত হইয়াছি। ইহা আমার এইরূপ একটি অঙ্গীকার যাহা আমি সংরক্ষিত ফলকে অপরিবর্তনীয়রূপে চূড়ান্ত করিয়াছি এবং  আমার শক্তির সীলমোহর দ্বারা মোহরাঙ্কিত করিয়াছি।- ৬৪

65. হে বিদ্রোহী ব্যক্তিগণ !
 আমার সহনশীলতা তোমাদিগকে সাহসী করিয়াছে এবং আমার ধৈর্য তোমাদিগকে অমনোযোগী করিয়াছে। সুতরাং তোমার নির্ভয়ে রিপুর অগ্নিময় ঘোটক সমূহের উপর আরোহণ করিয়া ধ্বংসের ও বিপদের পথে ভ্রমণ করিতেছ। হয়ত তোমরা আমাকে অমনোযোগী ও অজ্ঞ মনে করিয়াছ।	- ৬৫

66. হে প্রবাসীগণ !
 রসনা আমার নাম উল্লেখের জন্যই বিশেষ করিয়া প্রদত্ত হইয়াছে। অতএব দুর্নাম রটনা করিয়া ইহাকে কলুষিত করিও না, যদি নিজের স্বার্থের অনল তোমাদের পরাভব করে, তখন নিজের দোষ সমূহ স্মরণে প্রভৃত্ত হইবে এবং আমার সৃষ্টি জীবদের দুর্নাম করিও না, কারণ তোমাদের প্রত্যেকেই আমার সৃস্ট জীব অপেক্ষা নিজ সম্বন্ধে অধিকতর সচেতন ও পরিজ্ঞাত আছ।	- ৬৬

67. হে কল্পনার সন্তানগণ !
 জানিয়া রাখ যে, যখন উজ্জ্বল প্রভাত চিরস্থায়ী পবিত্রতার দিকমণ্ডল হইতে প্রকাশিত হয়, তখন নিশ্চয়ই রজনীর অন্ধকারে অনুষ্ঠিত সমুদয় পৈশাচিক রহস্যাবলী ও কার্যাবলী পৃথিবীর লোকের নিকট প্রকাশিত ও প্রভাবিত হইবে।	- ৬৭

68. হে ধূলি হইতে উদগত আগাছা !
 ইহা কিরূপে সম্ভব হইতেছে যে, কলুষিত হস্ত দ্বারা তুমি তোমার নিজ পরিচ্ছদ স্পর্শ করনা, অথচ বাসনা ও রিপুর কলুষ দ্বারা কলঙ্কিত তোমার মন লইয়া আমার সহিত সহচরত্ব অন্বেষণ করিতেছ এবং আমার পবিত্রতার রাজ্যে প্রবেশ করিতে বাসনা কর? আহা! আহা! যাহা তোমরা বাঞ্ছা করিতেছ, তাহা হইতে তোমরা অনেক ব্যবধানে।	- ৬৮

69. হে আদমের সন্তান !
 পবিত্র বাক্য ও পূত পবিত্র কর্ম  ঐশী একত্বের উজ্জ্বল স্বর্গের দিকে আরোহণ করে, চেষ্টা কর যেন তোমাদের কর্ম কপটতার ধূলি এবং স্বার্থ ও বাসনার আবিলতা হইতে পরিষ্কৃত হইতে পারে, এবং প্রভার দরবার প্রাঙ্গণে প্রবেশ লাভ করিতে পারে। কারণ অবিলম্বে অস্তিত্ব জগতের হিসাব পরীক্ষাগণ পূজিত মহীয়ান পুরুষের পবিত্র দরবার সন্নিধানে বিশুদ্ধ সাধুতা ও পবিত্র কর্ম ব্যতীত অন্য কিছুই গ্রহণ করিবেনা। ইহাই বিজ্ঞতার ও  ঐশী গূঢ়তত্ত্বের সূর্য, যাহা ঐশী ইচ্ছার মুখমণ্ডলের চক্রবাল হইতে উদিত হইয়াছে। কতই সৌভাগ্যবান তাহারা, যাহারা তাঁহার দিকে প্রত্যাবর্তন করে।	- ৬৯

70. হে পার্থিব জীবনের সন্তান !
 সত্তার রাজ্য আনন্দদায়ক, যদি তুমি তাহাতে উপস্থিত হও; অমরত্বের রাজ্য প্রভাময়, যদি তুমি নশ্বর জগতের বর্হিভাগের ঊর্ধ্বে বিচরণ কর; এবং দিব্যানন্দ মধুময়, যদি তুমি ঐশী যুবকের হস্ত হইতে পরিবেশিত রহস্যপূর্ণ গূঢ়তত্ত্বের পান-পাত্র হইতে পান কর। যদি তুমি এই সকল মর্যাদা প্রাপ্ত হও, তবে মৃত্যু ও ধ্বংস, শ্রম ও পাপ হইতে মুক্ত হইবে।- ৭০

71. হে আমার বন্ধুগণ !
 “জামানের”পবিত্র ভূমিতে অবস্থিত পরান পর্বতের উপর তোমরা, আমার সহিত যেই অঙ্গীকারে আবদ্ধ হইয়াছিলে, তাহা স্মরণ কর এবং সেই অঙ্গীকারে আমি উচ্চতম স্বর্গের জনমণ্ডলী ও চিরস্থায়ী নগরীর বাসিন্দাগণকে সাক্ষ্যরূপে গ্রহণ করিয়াছিলাম, অথচ এক্ষণে আমি কাহাকেও সেই অঙ্গীকারের অনুগামী দেখিতেছি না।নিশ্চয়ই এইরূপভবে নিশ্চিহ্ন করিয়া ফেলিয়াছে যে, ইহার কোনও চিহ্নও বর্তমান নাই, এবং আমি অবগত হইয়াও তাহা সহ্য করিয়াছি এবং প্রকাশ করি নাই।- ৭১

72. হে আমার ভৃত্য !
 তুমি যেন মণি দ্বারা অলঙ্কৃত একটি তরবারির ন্যায়, যাহা একটি অন্ধকারময় কোষে লুক্কায়িত থাকেঃ এবং এই কারণে মণিকারদের নিকট ইহার মূল্য অজ্ঞাত। অতএব, আত্ম-স্বার্থ ও বাসনার খাপ হইতে বহির্গত হইয়া আস, যেন তোমার মণি সদৃশ মূল্যবান গুণাবলী পৃথিবীর লোকের নিকট উন্মুক্ত ও উজ্জ্বলভাবে প্রকাশিত হইতে পারে।	- ৭২

73. হে আমার বন্ধু !
 তুমি আমার পবিত্রতার স্বর্গের সূর্য; নিজেকে পৃথিবীর সূর্যগ্রহণ দ্বারা কলুষিত করিও না।  শৈথিল্যের অন্তরালকে সম্পূর্ণরূপে বিদীর্ণ কর, যেন তুমি মেঘের পর্দান্তরাল হইতে বর্হিগত হইয়া আসিতে পার, এবং সকল বস্তুকে জীবনের পরিচ্ছদে অলঙ্কৃত করিতে পার।	- ৭৩

74. হে বৃথা গর্বের সন্তানগণ !
 কয়েক দিবসের নশ্বর রাজত্বের জন্য তোমরা আমার অবিনশ্বর রাজ্য পরিত্যাগ করিয়াছ, এবং নিজেদের পার্থিব ও জাঁকালো পরিচ্ছদে বিভূষিত করিতেছ, এবং এই কারণে বৃথা অহঙ্কার করিতেছ। আমার সুষমা সৌন্দর্যের শপথ গ্রহণ করিয়া ঘোষণা করিতেছি যে, আমি তাহাদের সকলকে একই বর্ণ-বিশিস্ট মৃত্তিকার তাম্বুর নিম্নে একত্রিত করিব; এবং আমি এই সকল বিভিন্ন বর্ণ মুছিয়া ফেলিব, কিন্তু তাহারা ব্যতীত যাহারা আমার বর্ণ নির্বাচন করে, এবং ইহা অন্য  সকল বর্ণ হইতে পূত পবিত্র।	- ৭৪

75. হে শৈধিল্যের সন্তানগণ !
 তোমরা নশ্বর রাজত্বের প্রতি তোমাদের মনসংযোগ করিও না; এবং তাহাতে আহলাদিত হইওনা। তোমরা একটি অসতর্ক পক্ষীর সদৃশ, যাহা উদ্যানের একটি বৃক্ষ শাখায় বসিয়া পূর্ণ শান্তির সহিত গান করিতেছে; যখন হঠাৎ শিকারীরূপ মৃত্যুদূত ইহাকে ধূলিতে নিক্ষেপ করে, তখন ইহার স্বর-মাধুর্য, আকৃতি ও বর্ণের কোন চিহ্নই অবশিষ্ট থাকেনা। অতএব, তোমরা সতর্ক হও, হে বাসনার ক্রীতদাসগণ।	- ৭৫

76. হে বাসনার সন্তান !
 বাক্য দ্বারাই বরাবর পথ-প্রদর্শন করা হইয়াছে; কিন্তু এক্ষণে ইহা কর্মের দ্বারাই হইতে হইবে। অর্থাৎ সকল পবিত্র কর্ম মানব শরীর মন্দির হইতেই প্রকাশিত হইতে হইবে, কারণ বাক্যে সকলেই অংশীদার; কিন্তু পূত ও পবিত্র কর্ম বিশেষতঃ আমার প্রিয়পাত্রগণের দ্বারাই সম্পাদিত হইয়া থাকে।অতএব, সর্বান্তঃকরণে চেষ্টা কর, যেন কার্য দ্বারা সকল লোকের মধ্যে প্রসিদ্ধ লাভ করিতেপার।এইরূপেই, আমরা এই পবিত্র ও উজ্জ্বল ফলকলিপিতে তোমাদিগকে উপদেশ প্রদান করিতেছি।-৭৬

77. হে ন্যায়পরতার সন্তান !
 রাত্রিকালে, অবিনশ্বর সত্তার সুষমা, বিশ্বস্ততার পান্না পর্বত শিখর হইতে স্বর্গীয় সিদরাতুল-মনতাহা বৃক্ষের সন্নিকটে প্রত্যাবর্তন করিলেন এবং এইরূপভাবে বিলাপ করিলেন যে, পরম স্বর্গীয় জনমণ্ডলী ও স্বর্গীয় দূতগণ সকলে তাঁহার বিলাপে ক্রন্দন করিল। তৎপর যখন তাঁহাকে বিলাপ ও ক্রন্দনের কারণ জিজ্ঞাসা করা হইল, তখন তিনি উত্তর করিলেনঃ “আদিষ্ট হইয়া, আমি বিশ্বস্ততার পর্বত শিখরে আশান্বিতভাবে প্রতীক্ষা করিতেছিলাম অথচ পৃথিবীর লোকদের নিকট হইতে বিশ্বস্ততার কোন সৌরভ প্রাপ্ত হই নাই। তৎপর আমি প্রত্যাবর্তনের ইচ্ছা প্রকাশ করিলাম। দৃষ্টি নিক্ষেপে দেখিতে পাইলাম যে, পবিত্রতার অনেক পারাবত পৃথিবীর কুকুর গুলির নখরাঘাতে উৎপীড়িত হইতেছিল।”এই সময়ে স্বর্গের কুমারী অবগুণ্ঠন ও অন্তরাল বিহীন, আধ্যাত্মিক রহস্যের প্রাসাদ হইতে দ্রুত অগ্রবর্তী হইল; এবং ইহাদের নাম জিজ্ঞাসা করিল এবং একটি নাম ব্যতীত আর সকল নামই বলা হইল। এবং যখন তাহারা জেদ করিল, তখন নামের প্রথম অক্ষর রসনা হইতে উচ্চারিত হইল এবং ইহার ফলে, স্বর্গের উচ্চকক্ষ সমূহের অধিবাসীগণ তাহাদের প্রভাময় রহস্যস্থান হইতে দ্রুত বহির্গত হইয়া আসিল। এবং  যখন দ্বিতীয় অক্ষর উচ্চারিত হইল  তখন সকলেই তাঁহার সম্মুখে মৃত্তিকার উপর পতিত হইল। ঠিক সেই মুহূর্তেই নৈকট্যের রহস্যাবৃত স্থান হইতে একটি স্বর্গীয় বাণী শ্রুত হইল “এতদপেক্ষা অধিকতর অনুমোদনীয় নহে। তাহারা যাহা করিয়াছে এবং  এক্ষণে যাহা করিতেছে, নিশ্চয়ই আমরা সে সম্বন্ধে সাক্ষী আছি।”	- ৭৭

78. হে আমার দাসীর সন্তান !
 করুণাময়ের রসনা হইতে স্বর্গীয় নিগূঢ় তত্ত্বের প্রস্রবণ পান কর, এবং ঐশী বাক্যোচ্চারণের উদয়াচল হইতে তাৎপর্যের সূর্যের আলোক সমূহের উজ্জ্বলতা অন্তরাল বিহীন সুস্পষ্টতার সহিত অবলোকন কর। হৃদয়ের পবিত্র মৃত্তিকায় আমার স্বর্গীয় জ্ঞান-বিজ্ঞতার বীজ সমূহ বপন কর, এবং তাহাতে সুনিশ্চয়তার জলসিঞ্চন
 কর, যেন আমার জ্ঞান ও বিজ্ঞতার বৃক্ষ গুলি হৃদয়ের পবিত্র নগর হইতে নবীন ও সবুজভাবে উদগত হইতে পারে।	- ৭৮

79. হে বাসনার সন্তান !
 নিজ স্বার্থের বায়ুমণ্ডলে আর কতকাল উড্ডীন করিতে থাকিবে ?আমি তোমাকে পক্ষদান করিয়াছি যেন তুমি নিগূঢ় রহস্যের পবিত্র রাজ্যের উড্ডীন করিতে পার, এবং শয়তানের কল্পনার রাজ্যে নহে।তোমাকে আমি একটি চিরুণি দান করিয়াছি, যেন তুমি আমার কৃষ্ণবর্ণ কেশগুচ্ছ সুবিন্যস্ত করিতে পার; আমার গণ্ডদেশ ক্ষত করিবার জন্য নহে।	- ৭৯

80. হে আমার সেবকগণ !
 তোমরাই আমার বাগানের বৃক্ষরাজি; তোমাদের সতেজ ও সুন্দর ফল প্রদান করিতে হইবে, যেন তোমরা নিজেরাও অপরেরা লাভবান হইতে পার। এজন্য তোমাদের সকলের পক্ষে শিল্পকার্য ও ব্যবসায়ে প্রবৃত্ত হওয়া অবশ্য কর্তব্য। হে বিচার বুদ্ধি সম্পন্ন লোকগণ, ইহাতেই ধন-সম্পাদ অর্জনের উপায় নিহিত। কারণ, কার্যগুলি ইহাদের উপায়ের উপর নির্ভরশীল। এবং তজ্জন্য ঈশ্বরের অনুগ্রহ তোমাদের পক্ষে পর্যাপ্ত হইবে। এবং ফলহীন বৃক্ষ অগ্নির ইন্ধনের উপযুক্ত ইহইয়াছে ও হইবে।	- ৮০

81. হে আমার ভৃত্য !
 মানুষের মধ্যে যাহারা এই পৃথিবীতে কোন সুফল প্রদান করেনা তাহারা নিকৃষ্টতম, এবং বাস্তবিকপক্ষে তাহারা মৃত লোকদের মধ্যে গণ্য; বরংমৃত ব্যক্তিগণ ইশ্বরের দৃষ্টিতে ঐ সকল অলস মূল্যহীন ব্যক্তি অপেক্ষা অধিকতর শ্রেয়	- ৮১

82. হে আমার ভৃত্য !
 মানুষের মধ্যে উহারাই শ্রেষ্ঠ, যাহারা কোন একটি ব্যবসায়ের দ্বারা জীবিকা অর্জন করে, এবং বিশ্ব-জগতের প্রভু ঈশ্বরের প্রেমের জন্য তাহারা নিজেদের ও জ্ঞাতিবর্গের ভরণপোষণে ব্যয় করিয়া থাকে।	- ৮২
 বিস্ময়কর নিগূঢ়তত্ত্বের কুলবধূ, যিনি শব্দাবলীর প্রকাশের পর্দান্তরালে লুক্কায়িত ছিলেন ঐশী বিধাতৃত্বের ও স্বর্গীয় অনুকম্পা সমূহের মাধ্যমে এক্ষণে প্রেমাস্পদের সুষমার প্রোজ্জ্বল আলোক রশ্মির ন্যায় প্রকাশিত হইয়াছেন। হেবন্ধুগণ, আমি সাক্ষ্য প্রদান করিতেছি যে অনুগ্রহ প্রদর্শন সম্পূর্ণ করা হইয়াছে, যুক্তি-তর্ক  প্রদর্শিত হইয়াছে এবং প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে। এক্ষণে দেখা যাক, একাগ্রতার পথ সমূহে তোমাদের চেষ্টা-উদ্যম কি ফল প্রকাশ করে। এই প্রকারে তোমাদের প্রতি ও যাহারা স্বর্গে ও মর্তে আছে তাহাদের প্রতি অনুগ্রহ সম্পূর্ণরূপে প্রদত্ত হইয়াছে। বিশ্ব-জগতের প্রভু ঈশ্বরের জন্যই সকল প্রশংসা।



Bahá'u'lláh